'ভারতের মতোই শত্রু' পিওকে-তে ১৪ জনকে গুলি করে মারাকে সমর্থন পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

Published : Jul 29, 2026, 11:25 AM IST
Pakistan Defence Minister Khawaja Asif said he viewed those taking to the streets against Islamabad as enemies like India

সংক্ষিপ্ত

বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই আবারও এক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। পিওকে-তে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনাকে সমর্থন করে আসিফ বলেন, ইসলামাবাদ-বিরোধী আন্দোলনে যারা রাস্তায় নেমেছেন, তিনি তাঁদের ভারতের মতোই শত্রু হিসেবে গণ্য করেন।

বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই আবারও এক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। পিওকে-তে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনাকে সমর্থন করে আসিফ বলেন, ইসলামাবাদ-বিরোধী আন্দোলনে যারা রাস্তায় নেমেছেন, তিনি তাঁদের ভারতের মতোই শত্রু হিসেবে গণ্য করেন। একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গাওয়ার পাশাপাশি ভারত এবং পিওকে-তে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করেননি আসিফ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমি বিক্ষোভকারীদের ভারতের সমপর্যায়েই দেখি এবং ভারতের মতোই তাদের শত্রু বলে মনে করি।" তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন এবং তাঁদের পাকিস্তানের শত্রু হিসেবে অভিহিত করেন।

'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত আসিফ এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে করলেন, যখন নিষিদ্ধ ঘোষিত 'জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি' (জেএএসি)-র নেতৃত্বে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। অন্তত ১৪ জন নিহত হন।

বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়ন

মঙ্গলবার, কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিলের দাবিতে জেএএসি-র হাজার হাজার সমর্থক রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদের দিকে মিছিল করেন। জেএএসি-র মতে, এই ব্যবস্থার ফলে পিওকে-র বাসিন্দাদের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং ইসলামাবাদ-ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে এই অঞ্চলে সরকার গঠনে প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হচ্ছে। বিক্ষোভকারী নেতাদের দাবি, শুধুমাত্র পিওকে-তে বসবাসকারী ব্যক্তিদেরই সেখানকার আইনসভা নির্বাচনের অধিকার থাকা উচিত। সংগঠনটির তথ্যমতে, প্রায় ৫,০০০ মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই নিরাপত্তা কর্মীরা গুলি চালায়। জেএএসি দাবি করেছে যে, এতে তাদের অন্তত ১৪ জন কর্মী নিহত এবং২৪ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জেএএসি-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উমর নাজিরের ছোট ভাই উসমান নাজির।

তবে পাকিস্তানি সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র বহন করছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই ঘটনায় পিওকে-তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যেখানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিক্ষোভ চলছে। একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ জুন বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এবং পরবর্তী সামরিক দমন-পীড়নের ঘটনায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে, ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও ৬ জন নিরাপত্তা কর্মী-সহ প্রায় ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনকে 'লোক দেখানো প্রক্রিয়া' আখ্যা দিল ভারত

পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরে (পিওকে) তথাকথিত আইনসভার নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের অবৈধ নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই নির্বাচন ওই ভূখণ্ড নিয়ে ভারতের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না। তিনি বলেন, "বর্তমানে যে লোক দেখানো নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলছে, তা আসলে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্বকে আড়াল করার এবং ওই অঞ্চলে তাদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গোপন করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।" ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জয়সওয়াল বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—যার মধ্যে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোও অন্তর্ভুক্ত—তা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জয়সওয়াল পিওকে-তে চলমান বিক্ষোভকে বিচ্ছিন্ন কোনও আইনশৃঙ্খলাজনিত ঘটনা হিসেবে না দেখে বরং গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আমরা আগেই বলেছি, পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান গণবিক্ষোভ হল পাকিস্তানের অর্থনৈতিক শোষণ, জনগণের মৌলিক অধিকার অস্বীকার এবং প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফলাফল।"

পিওকে-তে এই বিক্ষোভ রাতারাতি শুরু হয়নি। কয়েক মাস ধরেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ করে আসছেন। অনেক বিক্ষোভকারী সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ, ভর্তুকিযুক্ত আটা এবং প্রশাসনের কাছে অধিকতর জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন। এই আন্দোলন ধীরে ধীরে ওই ভূখণ্ডে ইসলামাবাদের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জন-অসন্তোষের এক বৃহত্তর বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

USA Tariff: ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপবে, মার্কিন সিনেটে আসছে নতুন বিল
China: তিব্বতের বরফের নীচে গোপন ল্যাব! 'ক্লোন' করে "সুপার চমরি গাই" বানাচ্ছে চিন