
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আবারও বিষ উগড়ে দিলেন। তিনি তাঁর ভারত বিরোধী মনোভাব আবারও স্পষ্ট করেছেন। ইসলামাবাদে আয়োজিত "ইয়াদগার-এ-ফাতেহ" (Yadgar-e-Fateh) অনুষ্ঠানে শাহবাজ শরিফ সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারতকে সরাসরি হুমকি দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের জলের প্রতিটি ফোঁটা তাঁর কাছে 'রেড লাইন' বা অলঙ্ঘনীয় বিষয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে ভারত যদি তার অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে পাকিস্তান সরাসরি পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। শরিফ বলেন, পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে সার্বভৌমত্বের উপর কোনও আঘাত এলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছিল। এরপর থেকেই পাকিস্তান ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। এছাড়া ২০২৫ সালের মে মাসে 'অপারেশন সিন্দুর'-এর আওতায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানা লক্ষ্য করে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছিল। শাহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। শরিফ বলেন, পাকিস্তান শান্তি ও মর্যাদার পক্ষে, তবে একে যেন দুর্বলতা মনে করা না হয়। শরিফ আরও দাবি করেন যে, ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাতের সময় পাকিস্তান ভারতকে পরাজিত করেছিল এবং সতর্ক করেন যে ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে আরও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে। শরিফ হুমকি দেন যে, ভবিষ্যতে কেউ যদি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের মে মাসের চেয়েও কঠোর শক্তি প্রয়োগ করা হবে। অবশ্য ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মে মাসের সংঘাতের পর উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সময়োপযোগী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে ট্রাম্প কার্যকর ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে ভারত যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে মার্কিন মধ্যস্থতার এই দাবি স্বীকার করেনি। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল এবং কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় এটি হয়েছে—এমন দাবি তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
শরিফ চিনকে পাকিস্তানের এমন এক বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন, যে কঠিন সময়ে পাহাড়ের মতো অটল হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও চিনের বন্ধুত্ব হিমালয়ের চেয়েও উঁচু। তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং তাতে তুরস্কের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন। শরিফ বিষয়টিকে মুসলিম বিশ্ব ও সমগ্র অঞ্চলের জন্য শান্তির বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেন।