এক ব্যক্তি তাঁর হোমমেকার স্ত্রীকে ঘরের কাজের জন্য প্রতি মাসে 'বেতন' দেন। এই টাকা সংসারের খরচ থেকে আলাদা। স্ত্রীর আর্থিক স্বাধীনতার জন্য এই ব্যবস্থা, নাকি সম্পর্ককে লেনদেনে পরিণত করা? এই নিয়েই Reddit-এ জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এক ব্যক্তি তাঁর হোমমেকার স্ত্রীকে ঘরের কাজের জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট 'বেতন' দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Reddit-এ জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবহারকারীরা স্ত্রীর আর্থিক স্বাধীনতা, বিনাবেতনে ঘরের কাজ এবং একটি সম্পর্কে সমতার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।
ঘটনার সূত্রপাত এক Reddit ব্যবহারকারীর পোস্ট থেকে। তিনি জানান, তাঁর সরকারি চাকরিজীবী দাদা তাঁর হোমমেকার স্ত্রীর সঙ্গে কীভাবে অর্থনৈতিক বিষয় সামলান। পোস্ট অনুযায়ী, ওই মহিলা রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংসারের দৈনন্দিন সব কাজ একাই সামলান। কিন্তু তাঁদের ব্যবস্থাটা একটু অন্যরকম। স্বামী বাড়ির কাজে স্ত্রীর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেন।
Reddit ব্যবহারকারী তাঁর দাদার যুক্তির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে লিখেছেন: “আমি সম্প্রতি জানতে পারলাম যে আমার দাদা প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বৌদিকে দেন, শুধুমাত্র ঘরের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে। তিনি এটাকে 'বউয়ের কর্তব্য' বলে মনে করেন না যে সব কাজ বিনামূল্যে করে দিতে হবে। তাঁর যুক্তি হল: যদি এই সব কাজ করার জন্য একজন পরিচারিকা, রাঁধুনি বা হোম ম্যানেজার রাখা হত, তাহলে তো বাজার চলতি দরে তাঁদের টাকা দিতেই হত। তাহলে শুধু স্ত্রী করছে বলেই সেই শ্রমের মূল্য ₹০ হয়ে যাবে কেন?”
তবে এই টাকাটা সংসারের সাধারণ খরচ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মুদিখানার জিনিস, বিল এবং অন্যান্য পারিবারিক খরচ স্বামী নিজেই জোগান দেন। স্ত্রীকে দেওয়া মাসিক টাকাটা তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তিনি সেই টাকা নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করতে, জমাতে বা ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি নিজের বাবা-মাকে সাহায্য করার জন্যও তাঁকে স্বামীর অনুমতি নিতে হয় না।
এই ব্যবস্থা দেখে ওই Reddit ব্যবহারকারীর মনে প্রশ্ন জেগেছে, হোমমেকারদের আর্থিক স্বাধীনতার জন্য এটি কি একটি স্বাস্থ্যকর উপায় হতে পারে? তিনি লিখেছেন, “আমি আগে কোনও ভারতীয় দম্পতিকে এভাবে অর্থনৈতিক বিষয় সামলাতে দেখিনি। সাধারণত, হয় জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থাকে অথবা স্ত্রী যখন খরচের জন্য টাকা চান, তখন স্বামী টাকা দেন।”
মূল প্রশ্নটি Reddit ব্যবহারকারীদের কাছে সরাসরি রাখা হয়েছিল: “আপনারা কি মনে করেন যে একজন হোমমেকার স্ত্রীকে আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়া এবং তাঁর শ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এটি একটি স্বাস্থ্যকর উপায়? নাকি এর ফলে বিয়েটা একটা চাকরির মতো লেনদেনের সম্পর্কে পরিণত হয়?”
অনেক ব্যবহারকারী এই ধারণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, হোমমেকাররা সারাদিন কাজ করলেও তার জন্য কোনও আর্থিক স্বীকৃতি পান না। একজন মন্তব্য করেছেন, “বউ সংসারের সব কাজ করবে অথচ তার জন্য কোনও প্রশংসাও পাবে না, তার থেকে এই ব্যবস্থাটা অনেক ভালো।”
আরেকজন ব্যবহারকারী এই ধারণাকে সমর্থন করে লিখেছেন, “এই ভাবনাটা আমার বহু বছর ধরেই পছন্দের। মেয়েদের ঘরের কাজকে কাজ বলে মনে করা হয় না এবং স্ত্রী যখন স্বামীর কাছে টাকা চায়, তখন কোথাও না কোথাও স্বামীর কর্তৃত্ব প্রকাশ পায়... এই ব্যবস্থাটা স্ত্রীকে আত্মবিশ্বাস দেয় যে হ্যাঁ, এটা আমার টাকা, আমি এটা উপার্জন করেছি। আপনার দাদাকে কুর্নিশ...”
এই আলোচনা একটি বৃহত্তর প্রশ্ন তুলে ধরেছে: ঘরের কাজকে কি শুধুমাত্র একটি বৈবাহিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত, যার জন্য কোনও পারিশ্রমিক হয় না? নাকি দম্পতিদের এর অর্থনৈতিক মূল্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উপায় খুঁজে বের করা উচিত? অনেক Reddit ব্যবহারকারীর মতে, এর উত্তর নির্ভর করছে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম্পত্যে সম্মান, সমতা এবং প্রকৃত স্বাধীনতা আসছে, নাকি নিছকই সম্পর্কের ওপর একটা দামের ট্যাগ লাগানো হচ্ছে তার ওপর।


