চিন সীমান্তের কাছে রাসুয়ার লেন্দে উপত্যকায় একটি হিমবাহ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় নেপাল ও চিনে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ এবং ব্যাপক উদ্ধারকাজ চলছে।

চিন সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাতের পর নেপালের দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ২৬ অগস্ট সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে রাসুয়ার লেন্দে উপত্যকায় বরফ ও পাথরের ধস নামে। এর ফলে প্রচণ্ড গতিতে বরফশীতল জল, পাথম ও ধ্বংসাবশেষ নীচে নেমে আসে। এই ঘটনায় ক্রমে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ১২০৪ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। চিতওয়ান থেকে সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে। সংখ্যাটা ৩৪৮। নওয়ালপারাসি পূর্ব থেকে উদ্ধার হয়েছে ২০২টি দেহ। নুয়াকোট থেকে ১৫৫, রাসুয়া থেকে ১১৫টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। ৯৫টি দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের বিপর্যস্ত এলাকা থেকে ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ২১ হাজার ৩১৪ জন রক্ষী দিন রাত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনও নিখোঁজ ৪,২১৬ জন। এদিকে চিনের সংবামাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বত থেকে বুধবার পর্যন্ত ২১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। সেখানে ৫৪১ জনের খোঁজ মেলেনি।

এদিকে ৭ দিন কেটে গেল ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের পরে এখনও নিখোঁজ বহু। বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা। অনেক নেপালি পরিবার নিখোঁজ আত্মীয়দের সন্ধান পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে প্রতীকী দাহ করেছেন। অনেকে কুশপুতুল তৈরি করে শেষকৃত্য করেছেন। তাদের দাবি এভাবে প্রিয়জনের আত্মা শান্তি পাবে।

প্রসঙ্গত, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলে এই ভয়ঙ্কর হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র স্রোত ভোটকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলোর ওপর আছড়ে পড়েছে। নিশ্চিহ্ন হয়েগিয়েছে বহু এলাকা। চিহ্ন মাত্র নেই বাড়ি, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রের। সেই বানে নিহতের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। বর্তমানে নেপালে দেহ উদ্ধার বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ ৪২১৬ জন তাদের মধ্যে আছেন ভারতীয়, আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, আমারেকির নাগরিকও।