Pakistan Education: মুখস্থ বিদ্যা নয়! এবার শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় বদলের দাবি পাকিস্তানে

Published : Aug 08, 2026, 04:06 PM IST
Pakistani Students Demand Education System Overhaul bsm

সংক্ষিপ্ত

পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাওয়ালপিন্ডি বোর্ডের সেরা ছাত্রছাত্রীরাই। তাঁদের মতে, পুরোনো সিলেবাস আর মুখস্থ-নির্ভর পড়াশোনা দিয়ে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানো যাচ্ছে না। তাই অবিলম্বে শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন সে দেশেরই কৃতী ছাত্রছাত্রীরা। রাওয়ালপিন্ডি বোর্ড অফ ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (BISE) পরীক্ষার সেরা পড়ুয়ারা কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশের পাঠ্যক্রম এবং পড়ানোর পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ছাত্রছাত্রীরা বলেছেন যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত মুখস্থ বিদ্যার উপর নির্ভরশীল। এর ফলে পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা বা পেশাগত জীবনের জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুত হতে পারছে না।

পাঠ্যক্রম বদলের ডাক

বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর কৃতি ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় পাঠ্যক্রমের আমূল বদলের ডাক দিয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের শিক্ষা নীতিতে আধুনিক বিশ্বের চাহিদা প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তাঁদের মতে, পুরোনো শিক্ষণ পদ্ধতি ছাত্রছাত্রীদের যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং হাতে-কলমে কাজ করার দক্ষতাকে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার আবহে তারা পিছিয়ে পড়ছে।

ছাত্রছাত্রীরা আরও দাবি করেন যে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাগত নীতিগুলি যেন সংবিধান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং নৈতিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি করা হয়। তাঁদের যুক্তি, এই ক্ষেত্রগুলিতে অর্থপূর্ণ সংস্কার দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

জিও নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, দু'বছরের বেশি সময় আগে পাকিস্তানে 'জাতীয় শিক্ষা জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করা সত্ত্বেও, এখনও প্রায় আড়াই কোটির বেশি শিশু স্কুলের বাইরে। এটি নীতি রূপায়ণ এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে গুরুতর ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

CSA রিভিউ

সিভিল সার্ভিসেস অ্যাকাডেমি (CSA)-র একটি পলিসি রিভিউ অনুযায়ী, পাকিস্তানের শিক্ষা সংকট এখন আর পরিকল্পনার অভাবে হচ্ছে না, বরং এর মূল কারণ হল দুর্বল রূপায়ণ, ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠান, অপর্যাপ্ত তহবিল, খণ্ডিত প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব।

রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে যে বর্তমানে ২.৫১ কোটি থেকে ২.৬ কোটি শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্কুলছুট জনসংখ্যার দেশে পরিণত হয়েছে। যদিও ন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাকশন প্ল্যান ২০২৬-এর অধীনে প্রদেশগুলি শিক্ষার রোডম্যাপ তৈরি করেছে, কিন্তু প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রূপায়ণের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ফাঁকের কারণে এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Pakistan: পেট্রোল-সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আকাশছোঁয়া, পাকিস্তানে বিক্ষোভ
'আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শীঘ্রই মিশে যাবে', সওয়াল তারেক রহমানের দলের সাংসদরেই