
Pakistan Protests: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে (US-Iran war) মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলে কদর পেতে চাইছিল পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পেট্রোল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামে ক্রমেই বাড়ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। শুক্রবার সেই ক্ষোভই রাস্তায় নেমে আসে। পেট্রোলিয়ামের উপর নতুন করে লেভি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) ডাকে দেশজুড়ে বিক্ষোভে সামিল হন কয়েক হাজার মানুষ। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, করাচি, লাহোর, পেশোয়ার, কোয়েটা, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি ও অ্যাবোটাবাদের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও সড়কে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং মিছিলের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘এবার যথেষ্ট হয়েছে’, ‘লেভি প্রত্যাহার করুন, জনগণকে স্বস্তি দিন’ এবং ‘কোনও লেভি ছাড়া ২২৫ টাকায় প্রতি লিটার পেট্রোল চাই।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হাফিজ নাঈমুর রহমান পাকিস্তান সরকারের কর সংক্রান্ত নীতির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ও তাঁর মন্ত্রিসভার উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, 'এই সরকার, এর আগের সরকার এবং তারও আগের সরকার, সবাই একই সমস্যার সঙ্গে জড়িত। তাই এই লেভি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শেহবাজ শরিফ ও তাঁর মন্ত্রীরা, পরিষ্কার করে শুনুন, আপনাদের পিছিয়ে আসতে হবে। এই লেভি কর বাতিল করতে হবে।'
চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকেই পাকিস্তান সরকার প্রতি সপ্তাহে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার জেরে তেল সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধনমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপও নিয়েছে। এপ্রিলে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম রেকর্ড প্রতি লিটার ৪৫৯ পাকিস্তানি মুদ্রায় এবং ডিজেলের দাম ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি মুদ্রায় পৌঁছে যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সারা বিশ্বের মধ্যে পাকিস্তানেই জ্বালানির দাম দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের উপরে রয়েছে শুধু মায়ানমার (Myanmar)। পরবর্তীকালে পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক নতুন পেট্রোলিয়াম লেভি চালু করার কথা ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর আওতায় জ্বালানির দাম প্রতিদিন নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে আগে থেকেই আর্থিক সংকটে থাকা পাকিস্তানি পরিবারগুলির উপর চাপ বেড়েছে। জ্বালানির দাম লাগাতার বাড়ায় পরিবহণ খরচ থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দামও বেড়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত পাকিস্তানের অর্থনীতিতে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।