
কাতার খুব শিগগিরই একটি নতুন সামরিক জোটের ঘোষণা করতে চলেছে। জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা যে কতটা জরুরি, তা স্পষ্ট করেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বে বড়সড় জ্বালানি সংকট আসা এখনও বাকি। দেশের সামরিক শক্তি বাড়াতে কাতার খুব তাড়াতাড়ি একটি নতুন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানার ঘোষণাও করবে। দোহার গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এই কথা জানান। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই নতুন প্রজেক্ট শুরু হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো।
ইরান যুদ্ধের সময় জ্বালানি কেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পরিকাঠামোর ওপর হওয়া ভয়াবহ হামলার পর থেকেই কাতার নিজেদের প্রতিরক্ষায় বেশি জোর দিচ্ছে। সেই সময় হামলায় রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বেশ কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এই রাস লাফান থেকেই বিশ্বের মোট এলএনজি (LNG) চাহিদার ৫ শতাংশ মেটানো হয়। ওই ঘটনার পর কাতার বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি 'ফোর্স ম্যাজেওর' (Force Majeure) বা অনিবার্য কারণবশত চুক্তি স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছিল।
সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ইতিমধ্যেই নিজেদের দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করতে অনেকটা এগিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমিরশাহির 'এজ গ্রুপ' (EDGE Group) এবং সৌদি আরবের 'সামি' (SAMI) বড় ভূমিকা পালন করছে। এজ গ্রুপের সিস্টেম আমিরশাহির দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ড্রোন হামলার ৮৫ শতাংশই রুখে দিতে পেরেছিল। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (SIPRI) রিপোর্ট বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলা অশান্তি ও সংঘাতের কারণে সেখানে সামরিক খাতে খরচ হু হু করে বাড়ছে। ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক খরচ বেড়ে প্রায় ২১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করেছে সৌদি আরব (৮৩.২ বিলিয়ন ডলার)।