
মৃত্যু যে জীবনের অবিচ্ছেদ্য সত্য, সেই কথাই বলছিলেন তিনি। ঈশ্বর ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্ব বোঝাচ্ছিলেন উপস্থিত ভক্তদের। কিন্তু সেই উপদেশ দেওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। লাইভ সম্প্রচার চলাকালীনই তাঁর মাথার উপর ভেঙে পড়ল দেওয়ালে টাঙানো বিশাল ক্রুশ। গুরুতর আঘাত পেয়ে মৃত্যু হল ক্যাথলিক পুরোহিতের। ঘটনাটি ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল শহরের। মৃত পুরোহিতের নাম ফাদার প্যাট্রিসিও আলফ্রেডো সানচেজ মোলিনারি। তিনি শহরের আওয়ার লেডি অফ পারপেচুয়াল হেল্প চার্চের যাজক ছিলেন। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় প্রার্থনাসভা চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্চে প্রার্থনাসভা পরিচালনা করছিলেন ফাদার মোলিনারি। সেই অনুষ্ঠান সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। বেদির সামনে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় উপদেশ দেওয়ার সময় তিনি জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি বোঝাচ্ছিলেন, মোবাইল ফোনে অযথা সময় নষ্ট না করে ঈশ্বর এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, একদিন প্রত্যেককেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। কিন্তু সেই উপদেশ দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। তাঁর পিছনের দেওয়ালে লাগানো ভারী কাঠের ক্রুশটি হঠাৎ খুলে পড়ে। ক্রুশটি সরাসরি তাঁর মাথার পিছনে আঘাত করে। ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচারের ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
ক্রুশটি পড়তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পুরোহিত। ঘটনায় চার্চের ভিতরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রচারের ভিডিওতে তাঁদের চিৎকার ও সাহায্যের জন্য ছুটে যাওয়ার দৃশ্য শোনা যায়। তাঁকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত সাহায্যের চেষ্টা করা হয়। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। ঠিক কী কারণে এত ভারী ক্রুশটি দেওয়াল থেকে খুলে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ফাদার মোলিনারির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস। তিনি রিডেম্পটরিস্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা ধর্মপ্রচার, প্রার্থনা এবং মানুষের সেবার কাজে যুক্ত। মৃত্যুর ঠিক আগে জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে তাঁর বক্তব্য এবং তার পরেই ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।