
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। সৌদি আরব রিয়াদের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসকে নিশানা করে ছোড়া ছ'টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সফলভাবে রুখে দিয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মিসাইলগুলোকে লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগেই ধরে ফেলে এবং আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। ফলে বড়সড় ক্ষতি আর প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটি এবং দেশের সুরক্ষায় এর বড় ভূমিকা রয়েছে। শুধু তাই নয়, আমেরিকার মতো বন্ধু দেশগুলোর সেনাও এই ঘাঁটিতে থাকে। তাই আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে এই ঘাঁটি একটা বড় টার্গেট।
এই ঘটনাটা এমন সময়ে ঘটল, যখন আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরানের লড়াই গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। মিসাইল আর ড্রোনের হামলার মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও (UAE) আকাশপথে হামলা রুখতে নিজেদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম চালু করে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে।
গত কয়েকদিনে সৌদি আরব, UAE, কাতার এবং বাহরিনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে মিসাইল আর ড্রোন হামলা অনেক বেড়েছে। ইরান এবং তার সহযোগী শক্তিগুলো এই অঞ্চলে পালটা হামলা চালাচ্ছে। বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে হামলা ঠেকানোর খবর আসছে।
চলতি বছরের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এই সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং দ্রুত একটা বড় আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়। এখন শুধু সরাসরি হামলা নয়, ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন, মিসাইল বর্ষণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও আক্রমণ চলছে।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত আত্মরক্ষার ওপরেই জোর দিচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হল মিসাইল হামলা ঠেকানো এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো বাঁচানো। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই বাড়তে থাকা সংঘাত গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথগুলোতেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
একাধিক দেশ হাই অ্যালার্টে রয়েছে এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোও সক্রিয়। ফলে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।