
অ্যান্টকটিকা: বরফ-ঢাকা অ্যান্টার্কটিক মহাদেশে এই দিনগুলিতে বিজ্ঞান এবং প্রকৃতির মধ্যে এক বিরল লড়াই চলছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঠান্ডা এবং দুর্গম এই মহাদেশে, বিজ্ঞানীরা একটি বিরল সূর্যগ্রহণ ক্যামেরাবন্দি করতে জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। বিজ্ঞান বিশ্ব বিশ্বাস করে যে এই মিশনটি সৌরশিখা এবং মহাকাশের আবহাওয়ার রহস্য উন্মোচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই, অ্যান্টার্কটিকার কনকর্ডিয়া এবং মিরনি স্টেশনের গবেষকরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বের অন্যান্য অংশে যখন আবহাওয়া স্থিতিশীল, তখন অ্যান্টার্কটিকার বিজ্ঞানীরা মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম তাপমাত্রার সঙ্গে লড়াই করছেন। বিচ্ছিন্ন অবস্থান এবং অত্যন্ত শুষ্ক বাতাসের কারণে 'সাদা মঙ্গল' নামে পরিচিত কনকর্ডিয়া স্টেশনের বায়ুমণ্ডল সূর্য পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প সূর্য পর্যবেক্ষণে বাধা সৃষ্টি করলেও, অ্যান্টার্কটিকার উচ্চ মালভূমি গবেষকদের আকাশ পরিষ্কারভাবে দেখার এক বিরল সুযোগ করে দেয়।
গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে যখন চাঁদ সূর্যকে ঢেকে দেবে, তখন সেই দৃশ্য সঠিকভাবে রেকর্ড করার জন্য যন্ত্রপাতিগুলিকে সচল রাখতে হবে। কিন্তু প্রচণ্ড ঠান্ডায় সাধারণ মেকানিক্যাল লুব্রিকেন্ট জমে গিয়ে যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ইঞ্জিনিয়াররা বিশেষ ড্রাই লুব্রিকেন্ট এবং হিটিং সিস্টেম ব্যবহার করছেন। সেন্সরগুলিরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্রহণের এই কয়েক মিনিটের মধ্যে যদি একটিও যন্ত্রাংশ বিকল হয়, তবে বছরের পর বছরের পরিকল্পনা এবং কোটি কোটি ডলারের খরচ বৃথা যাবে।
রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন মিরনি স্টেশনে উপকূলীয় বাতাস আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবল বাতাস সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে ডেটা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই সমস্ত বাধা অতিক্রম করে বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হল সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল, অর্থাৎ সোলার করোনা নিয়ে গবেষণা করা। সাধারণত, সূর্যের তীব্র আলোর কারণে করোনা দেখা যায় না। কিন্তু গ্রহণের সময় এটিকে স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
সোলার ফ্লেয়ার বা সৌরশিখা পৃথিবীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস সিস্টেম এবং পাওয়ার গ্রিডকে প্রভাবিত করতে এবং ক্ষতি করতে পারে। তাই করোনা সম্পর্কে গবেষণা পৃথিবীর প্রযুক্তিগত সিস্টেমগুলিকে রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে চালানো এই মিশনটি জ্ঞানের জন্য মানুষের অদম্য সাহসের প্রমাণ হয়ে উঠছে। পরবর্তী সূর্যগ্রহণ হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি।