
নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে যাওয়ার সময় এবং সেখান থেকে বেরনোর পথে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে সন্ত্রাসবাদ ও লস্কর-ই-তইবার (LeT) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদকে নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু দু’টি প্রশ্নের কোনওটিরই উত্তর দেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে ঢোকার সময় এক সাংবাদিক শেহবাজকে প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রী, সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া কবে বন্ধ করবেন?” প্রশ্ন শুনেও কোনও জবাব না দিয়ে হাত তুলে এগিয়ে যান তিনি। এরপর বেরনোর সময় ফের তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। সাংবাদিক জানতে চান, “লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে মামলা করবেন?” এ বারও কোনও উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান শেহবাজ।
হাফিজ মহম্মদ সইদ লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম এবং ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার ঘটনায় ভারতের কাছে ওয়ান্টেড অভিযুক্ত। ভারত সরকার বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা UAPA-এর অধীনে তাকে জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৫ সালের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্তেও হাফিজ সইদের নাম উঠে এসেছে। ওই মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) তাকে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে অভিযুক্ত নম্বর ৮ হিসেবে উল্লেখ করেছে। NIA-র অভিযোগ, হামলার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার অপারেটিভরা যুক্ত ছিল।
শেহবাজ শরিফকে এই প্রশ্ন করা হয় এমন এক সময়ে, যখন রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সরব হয়েছে ভারত। ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানকে অন্য দেশের দিকে নজর না দিয়ে নিজের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের দিকে মন দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে ওঠা অভিযোগের কথাও তুলে ধরা হয়। ভারতের বক্তব্য, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দেশের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া।