পাক বিমান হানায় উত্তপ্ত আফগানিস্তান, ইসলামাবাদকে কড়া বার্তা দিয়ে তলব কাবুলের

Published : Feb 22, 2026, 09:04 PM IST
Taliban Summons Pakistani Envoy After Deadly Airstrikes Kill Civilians

সংক্ষিপ্ত

Pakistan Vs Afghanistan: পাকিস্তানের বিমান হানার জেরে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাক্তিকা প্রদেশে বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান (IEA)। 

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগারহার ও পাক্তিকায় পাকিস্তানি সেনার হামলার অভিযোগে কাবুলে নিযুক্ত পাক রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান (IEA)-এর বিদেশ মন্ত্রক। রবিবার বিদেশ মন্ত্রক এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে জানায়, এই হামলায় 'বহু' সাধারণ আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "পাকিস্তানের সেনার হামলায় আমাদের দেশের বহু মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। এর জবাবেই কাবুলে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।"

আফগানিস্থানে হামলা পাকিস্তানের

এর আগে রবিবারই, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (IHRF) আফগানিস্তানের বেহসুদ জেলায় একটি ভয়াবহ বিমান হানার খবরের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ফাউন্ডেশনটি জানায়, একটি পাকিস্তানি সামরিক হামলায় একটি সাধারণ বাড়ির ওপর বোমা ফেলা হয়, যার ফলে 'একই পরিবারের অন্তত ১৬ জন সদস্যের গণহত্যা' হয়েছে।

IHRF-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে এক বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বৃদ্ধও ছিলেন। ফাউন্ডেশনটি জানিয়েছে, এই হামলা 'শুধু প্রাণহানি নয়, একটি গোটা পরিবারের বংশ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সামিল'। এই হামলায় ১৬ জন মারা গেলেও, দুটি শিশু আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গিয়েছে। রিয়াজুল্লাহ নামে ২০ বছরের এক যুবকও আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৮০ বছরের শাহাবুদ্দিন, ৩০ বছরের শারাকাত এবং ৪০ বছরের মুহমান্দা সহ আরও অনেকে। IHRF জোর দিয়ে বলেছে, "ওরা শুধু সংখ্যা নয়; ওরা মানুষ।"

হামলার কথা স্বীকার করল পাকিস্তান

টোলো নিউজের খবর অনুযায়ী, বেহসুদের এই হামলা একটি বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ। পাকিস্তানি জেট নানগারহারের খোগিয়ানি জেলা এবং পাক্তিকা প্রদেশের বেরমাল জেলার একটি ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে।

শনিবার থেকে পাক্তিকার বেরমাল ও আরগুন এবং নানগারহারের খোগিয়ানি, বেহসুদ ও ঘানি খেল জেলায় একাধিক হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এবং জিও নিউজ সে দেশের তথ্য মন্ত্রকের সূত্র বিমান হানার খবর নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, ফিতনা আল খারিজি (FAK), তার সহযোগী সংগঠন এবং দায়েশ খোরাসান প্রদেশ (DKP)-এর সাতটি জঙ্গি শিবির ও গোপন আস্তানায় হামলা চালানো হয়েছে।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, রমজান মাসে ইসলামাবাদ, বাজাউর এবং বান্নুতে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার জবাবে 'অত্যন্ত নিখুঁতভাবে' এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর আফগানিস্তান-ভিত্তিক নেতৃত্ব এই হামলাগুলো করিয়েছিল।

যদিও ইসলামাবাদ বারবার আফগান তালিবানকে তাদের মাটি জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে না দেওয়ার অনুরোধ করার কথা বলছে, কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আশা করে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগান মাটি ব্যবহার রুখবে। দোহা চুক্তি মেনে চলতে আফগান কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের একটি কড়া সতর্কবার্তার পর। মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, "পাকিস্তান তার নাগরিকদের জীবন রক্ষার জন্য আফগানিস্তানকে নিশানা করার অধিকার রাখে।"

তবে IHRF জানিয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই হামলা 'আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন'। তাদের মতে, 'ঘুমন্ত শিশুসহ একটি গোটা পরিবারকে হত্যার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না'।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি 'অবিলম্বে, স্বাধীন এবং স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক তদন্ত' এবং যারা এই হামলার নির্দেশ দিয়েছে ও চালিয়েছে, তাদের শাস্তির দাবি করেছে।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Dark Galaxy: তারা নেই, শুধুই ডার্ক ম্যাটার! মহাকাশে মিলল এক ভূতুড়ে গ্যালাক্সির খোঁজ
US Winter Storm: বরফের ঝড়ে বিপর্যস্ত আমেরিকা, এয়ার ইন্ডিয়ার নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট বাতিল