যত দোষ বাইডেনের! জিনপিংয়ের ‘ আমেরিকা পতনশীল দেশ’ মন্তব্যে প্রাক্তনের ঘাড়ে দায় চাপালেন ট্রাম্প

Published : May 15, 2026, 11:03 AM IST
beijing trump xi summit security clash reporters blocked secret service tensions china us

সংক্ষিপ্ত

Trump in China: ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমেরিকাকে 'পতনশীল দেশ' বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা আসলে জো বাইডেন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলা। ট্রাম্পের মতে, তার সময়ে আমেরিকা অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়েছিল। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি মন্তব্যকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, জিনপিং যে আমেরিকাকে 'পতনশীল দেশ' বলেছিলেন, তা আসলে জো বাইডেন প্রশাসনের 'ক্ষতি'র দিকে ইঙ্গিত করে বলা। তিনি আরও বলেন, তার সময়েই আমেরিকা বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আবার উঠে দাঁড়িয়েছিল।

ট্রাম্পের নিশানায় জো বাইডেন

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসনের কাজকর্মের নিরিখে জিনপিংয়ের মূল্যায়ন '১০০ শতাংশ সঠিক'। ট্রাম্পের অভিযোগ, বাইডেন প্রশাসন দুর্বল সীমান্ত, উচ্চ কর, সামাজিক নীতিতে বদল এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী।

ট্রাম্প লেখেন, "প্রেসিডেন্ট শি যখন খুব মার্জিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি পতনশীল দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, তখন তিনি 'স্লিপি জো বাইডেন'-এর চার বছরের শাসনে আমাদের যে সব ক্ষতি হয়েছে, সে কথাই বলছিলেন। খোলা সীমান্ত, উচ্চ কর, সবার জন্য ট্রান্সজেন্ডার, মহিলাদের খেলায় পুরুষদের অংশগ্রহণ, DEI (ডাইভারসিটি, ইক্যুইটি, ইনক্লুশন), জঘন্য বাণিজ্য চুক্তি, লাগামছাড়া অপরাধ—এই সবের জন্য আমাদের দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে!"

নিজের সাফল্যের খতিয়ান ট্রাম্পের

এরপরেই ট্রাম্প তার আমলের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জিনপিংয়ের মন্তব্য তার ১৬ মাসের 'অসাধারণ উত্থান'-এর সময়কার আমেরিকার জন্য ছিল না। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী তার সাফল্যগুলো হলো: শেয়ার বাজার ও 401K সর্বকালের সেরা উচ্চতায় পৌঁছানো, ভেনেজুয়েলায় সামরিক বিজয়, ইরানের সামরিক শক্তি খর্ব করা, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরি, এবং আমেরিকাকে আবার অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউসে পরিণত করা। তিনি আরও দাবি করেন, তার সময়ে আমেরিকায় রেকর্ড ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, দেশের ইতিহাসে সেরা চাকরির বাজার তৈরি হয়েছে এবং DEI-এর মতো 'দেশ ধ্বংসকারী' নীতি বন্ধ করা হয়েছে।

চিনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ!

ট্রাম্পের দাবি, এত কম সময়ে এত সাফল্যের জন্য প্রেসিডেন্ট শি তাকে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন। পোস্টের শেষে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা একসময় পতনের দিকে এগোলেও এখন আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছে। তিনি চিনের সঙ্গে আরও মজবুত ও ভালো সম্পর্কের আশাও প্রকাশ করেন। "দুই বছর আগে আমরা সত্যিই একটি পতনশীল দেশ ছিলাম। এই বিষয়ে আমি প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গে পুরোপুরি একমত! কিন্তু এখন, আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেশ, এবং আশা করি চিনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও ভালো হবে!"

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন তিনি চিন সফরে রয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, শি জিনপিং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রায়ই বলেছেন, "পূর্বের উত্থান ঘটছে এবং পশ্চিমের পতন হচ্ছে"। যদিও এই মন্তব্যে 'পশ্চিম' বলতে বৃহত্তর অর্থে বোঝানো হয়, তবে চিনের নেতৃত্ব, রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিশেষভাবে আমেরিকার দিকেই আঙুল তোলেন।

বেইজিং আমেরিকার রাজনৈতিক বিভেদ, সামাজিক বিভাজন এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী পতনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অনুসারে, এই সপ্তাহে বেইজিং শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শি জিনপিং একই ধরনের মন্তব্য করেছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে শি জিনপিংয়ের সুর ছিল বেশ নরম এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। বেইজিংয়ে সেই নৈশভোজে জিনপিং বলেন, চীনের 'মহান পুনরুজ্জীবন' এবং আমেরিকার 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' এজেন্ডা একসঙ্গে এগোতে পারে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে আধুনিক যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বলে উল্লেখ করেন এবং সতর্ক করে বলেন যে দুই দেশকেই "এই সম্পর্ককে সফল করতে হবে এবং কখনও নষ্ট করা উচিত নয়।"

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

৯ বছর পরে চিন সফরে আল্পুত ট্রাম্প, মহাভোজে প্রথা ভেঙে মদ্যপান মার্কিন প্রেসিডেন্টের
Fatah 4 Missile: 'ফাতাহ-৪' ক্রুজ মিসাইল টেস্ট পাকিস্তানের, রেঞ্জে ভারতের কোন কোন শহর?