
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, 'এরপর কিউবার পালা'। ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ-এর একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হানার কথা বলার পরেই তিনি কিউবার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, "যাইহোক, এরপর কিউবার পালা। তবে এমন ভান করুন যেন আমি এটা বলিনি। এরপর কিউবার পালা।"
মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও বলেছেন, কিউবা একটা 'বিপর্যয়', কারণ তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটাই ঠিকমতো কাজ করে না। রুবিও বলেছিলেন, "কিউবার কাছে তেল বা জ্বালানি না থাকার কারণ হলো, তারা সবকিছু বিনামূল্যে চায়। কিউবা একটা বিপর্যয় কারণ তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটাই অকেজো।"
এর আগে ২৬ মার্চ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস বৃহস্পতিবার বলেন, স্বাস্থ্যকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হবে এবং একে কখনও ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি অবরোধ বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
ঘেব্রেইসাস বলেন, "কিউবার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ দেশটি এক চরম অস্থিরতার মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।" স্বাস্থ্যকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রক্ষা করতে হবে এবং একে কখনও ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি অবরোধ বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট আরও গভীর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে সাহায্য করতে একটি মানবিক জাহাজের বহর সেখানে পৌঁছেছে। প্রায় ৩০ জন মানুষ, খাবার, ওষুধ, সোলার প্যানেল এবং সাইকেল নিয়ে প্রথম নৌকাটি মঙ্গলবার রাজধানী হাভানায় পৌঁছায়। 'নুয়েস্ত্রা আমেরিকা' বা 'আওয়ার আমেরিকা' নামের এই কনভয়টি গত সপ্তাহে মেক্সিকো থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সহযোগীরা কিউবায় শাসন পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা বারবার বলছেন। কিউবার অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করতে তারা কঠোর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করছেন। ট্রাম্প এমনকি এও বলেছেন যে তিনি কিউবাকে 'দখল' করতে পারেন এবং মার্কিন দাবি মেনে চলার মতো একটি সরকার বেছে নিতে পারেন।
মঙ্গলবার পৌঁছানো জাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছে 'গ্রানমা ২.০'। এই নামটি ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবার বিপ্লবীদের নিয়ে আসা সেই নৌকার কথা মনে করিয়ে দেয়, যা মার্কিন-সমর্থিত শাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তার সরকারকে উৎখাত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। জাহাজটি গত সপ্তাহে মেক্সিকোর মেরিডার পুয়ের্তো প্রোগ্রেসো থেকে রওনা দিয়েছিল। আরও দুটি জাহাজও পথে রয়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।