Iran Nuclear Deal:ইরান আমেরিকার কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছাড় দিয়েছে বলে জানালেন হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্তা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এখনও কোনও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় যেকোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। 

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বড়সড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিল আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ ফর পলিসি এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার স্টিফেন মিলার জানিয়েছেন, ইরান আমেরিকার কাছে "বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং বড়সড় ছাড়" দিয়েছে। তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এখনও কোনও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইরানের সুর নরম!

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলার বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন হয়েছে, যা কয়েক মাস আগেও ভাবা যেত না। মিলার বলেন, "ইরান আমেরিকার কাছে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চোখে পড়ার মতো ছাড় দিয়েছে, যা কিছুদিন আগেও অসম্ভব ছিল।"

শেষ সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখেন। তিনি আরও বলেন, "তবে আবারও বলছি, যতক্ষণ না সব চূড়ান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ কিছুই চূড়ান্ত নয়। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তিনি বর্তমানে বা ভবিষ্যতে যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প খোলা রেখেছেন।"

যুদ্ধ শেষের পথে আমেরিকা!

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন পশ্চিম এশিয়ায় একটি বৃহত্তর কৌশলগত চুক্তি সম্পাদনের "খুব কাছাকাছি" চলে এসেছে। তিনি দাবি করেন, আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে যাবে, ইরানের প্রচলিত সামরিক ক্ষমতা দুর্বল হবে এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আমেরিকা অনেকটাই পিছিয়ে দিতে পারবে। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স বলেন, প্রশাসন এই ঘটনাকে আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য একটি বড় কৌশলগত জয় হিসেবে দেখছে।

ভ্যান্স বলেন, "যদি আমরা এখানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছতে পারি, তাহলে ভেবে দেখুন আমরা কী অর্জন করেছি। আমরা হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দিচ্ছি, আমরা ইতিমধ্যেই তাদের প্রচলিত সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, এবং আমরা এমন একটা জায়গায় আছি যেখান থেকে তাদের পরমাণু কর্মসূচিকে শুধু এই প্রেসিডেন্টের মেয়াদে নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে দিতে পারব। এটা আমেরিকান জনগণের জন্য খুব, খুব ভালো একটা বিষয়।" তিনি আরও বলেন, "আমরা এখনও লক্ষ্যে পৌঁছইনি, তবে খুব কাছাকাছি আছি। আমরা এর জন্য কাজ চালিয়ে যাব।"

ট্রাম্প কী করবেন?

অন্যদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) ইরানের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের "সামরিক পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক চাপের" প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এই চাপের ফলেই তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য মার্কিন চুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বেসেন্ট জোর দিয়ে বলেন, সবকিছুই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে, যিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে তার দাবিতে অটল। তিনি বলেন, "সবকিছু নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট কী করতে চান তার ওপর, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের জন্য একটি খারাপ চুক্তি করবেন না।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো চুক্তিতে ট্রাম্পের দাবিগুলো পূরণ করতে হবে। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে তার উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।

60 দিনের অস্থায়ী চুক্তি

তিনি বলেন, "এটি একটি বহুমাত্রিক চুক্তি এবং যতক্ষণ না আমরা হরমুজ প্রণালী খোলা দেখছি এবং ইরানিরা তাদের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হচ্ছে ও পরমাণু কর্মসূচি না চালানোর বিষয়ে সম্মত হচ্ছে, ততক্ষণ কিছুই চূড়ান্ত হবে না।" একটি Axios রিপোর্টের খবর অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরানের আলোচকরা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে একটি ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক (MoU)-এ পৌঁছেছেন। এই চুক্তিটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং ইরানের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে।