Trump Warns: মাত্র একদিনই ইরানকে উড়িয়ে দিতে পারি: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

Saborni Mitra   | ANI
Published : Apr 12, 2026, 09:36 PM IST
Trump Warns of Devastating Strike on Iran After Diplomatic Talks Collapse

সংক্ষিপ্ত

Iran-US Tensions: ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান শেষ পর্যন্ত আমেরিকার দাবি মানতে বাধ্য হবে।  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ইরানকে এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি একদিকে যেমন বলেছেন যে তেহরান শেষ পর্যন্ত আমেরিকার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে, তেমনই অন্যদিকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস ইরান আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে। তাঁর কথায়, "আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি, ওরা ফিরে আসবে এবং আমরা যা চাই, তার সবকিছুই আমাদের দেবে।" ইরানের হাতে দর কষাকষির মতো কোনও সুযোগই নেই বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, "আমি সবকিছু চাই... ওদের হাতে খেলার মতো কোনও তাসই নেই।"

গত সপ্তাহে দেওয়া তাঁর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকেও এদিন সমর্থন করেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, "একটা গোটা সভ্যতা আজ রাতে শেষ হয়ে যাবে, আর কখনও ফিরে আসবে না।" তাঁর মতে, এই ধরনের কড়া বার্তার কারণেই ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, "আমি যখন সভ্যতার কথা বলি, তখন সত্যিই পরিস্থিতি বদলে যায়। ভাবুন তো, ওরা 'আমেরিকা নিপাত যাক' বলার অনুমতি পায়, আর আমি একটা কথা বললেই এত শোরগোল। আমার ওই একটা মন্তব্যের জন্যই ওরা আলোচনার টেবিলে এসেছিল এবং এখনও সেখান থেকে সরেনি।"

ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়া নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে করেছেন যখন ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক কোনও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁর হুমকির সুর আরও চড়ান। তিনি বলেন, "আমি একদিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি।"

কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, "এক ঘণ্টার মধ্যে আমি ওদের পুরো শক্তি পরিকাঠামো, সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করে দিতে পারি, যা একটা বড় ব্যাপার। আমি এটা করতে চাই না, কারণ একবার করলে সেটা পুনর্নির্মাণ করতে ওদের ১০ বছর লেগে যাবে। ওরা আর কখনওই তা তৈরি করতে পারবে না। আর ব্রিজগুলোও উড়িয়ে দেওয়া হবে।"

পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে

পাকিস্তানে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ কূটনৈতিক বৈঠকের পর ওয়াশিংটনের এই কড়া বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেন। রবিবার ভোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পরেই তিনি ফিরে যান। তিনি জানান, এই অচলাবস্থার কারণে শান্তি প্রচেষ্টা অনেকটাই পিছিয়ে গেল।

ভ্যান্সের বার্তা

ভ্যান্স বলেন, "ইরানের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছু বিষয়ে বোঝাপড়া হয়েছে, এটা ভালো খবর। কিন্তু খারাপ খবর হল, আমরা কোনও চুক্তিতে পৌঁছতে পারিনি। এটা ইরানের জন্য খারাপ খবর, আমেরিকার জন্য ততটা নয়। আমরা কোনও চুক্তি ছাড়াই আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছি।" ভাইস প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকা তাদের "রেড লাইন" বা শেষ সীমা স্পষ্ট করে দিয়েছিল, কিন্তু তেহরান "আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।" সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে ভ্যান্স জানান, ওয়াশিংটন চেয়েছিল ইরান পরমাণু অস্ত্র বা তা তৈরির সরঞ্জাম না বানানোর প্রতিশ্রুতি দিক। তিনি বলেন, "আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছতে পারলাম না যেখানে ইরান আমাদের শর্ত মানতে রাজি হবে।" আমেরিকা "অনেকটাই নমনীয়" ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের নেতৃত্বের বিবেচনার জন্য একটি "চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব" রেখে এসেছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, আমেরিকার "অতিরিক্ত দাবিদাওয়া"র কারণেই আলোচনা ভেস্তে গেছে। পরমাণু অধিকার এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে মতবিরোধই এর মূল কারণ বলে তারা উল্লেখ করেছে।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

US-Iran Ceasefire: যুদ্ধবিরতি বৈঠকে রণেভঙ্গ ট্রাম্প-ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আবার শুরুর পথে!
Ugandan Army Chief: '১ বিলিয়ন ডলার ও সবচেয়ে সুন্দরী মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে চাই', তুরস্কের কাছে দাবি উগান্ডার সেনাপ্রধানের!