
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, তিনদিন পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে তুর্কি সামরিক বিমানের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। ১৯ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক তুর্কি সি-১৩০ হারকিউলিস (C-130 Hercules) পরিবহন বিমান বেশ কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটি এবং করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটিতে এই বিমানগুলোকে ওঠানামা করতে দেখা গেছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে জানিয়েছে যে এই বিমান ওঠানামার ধরন ছিল অস্বাভাবিক।
তিন দিন ধরে তুর্কি বিমান বাহিনীর সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানগুলোর একাধিক ফ্লাইট বা 'সর্টি' (sortie) লক্ষ্য করা গেছে। পরিবহন বিমানগুলো তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেছে।
পাকিস্তান যখন তাদের চালকবিহীন বিমান (UAV) বা ড্রোনের বহর এবং অস্ত্রের মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই বিমানের এই আনাগোনা বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, তুর্কি ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে হয়ত বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সূত্র আরও জানিয়েছে, ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জামের পাশাপাশি পাকিস্তান হয়ত 'এইচকিউ' (HQ) সিরিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও (air defence system) হাতে পেয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানকে সরবরাহ করা তুর্কি চালকবিহীন ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম হল 'বায়রাকতার টিবি২' (Bayraktar TB2)। এটি তুরস্কের তৈরি মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে সক্ষম একটি কৌশলগত ড্রোন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যবহারের পর 'বায়রাকতার টিবি২' আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই ড্রোনটিকে তার শ্রেণির অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র চালকবিহীন বিমান (UAV) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সামরিক বিমানের এই সাম্প্রতিক আনাগোনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তান দ্রুতগতিতে তাদের চালকবিহীন যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এই সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি চালানো হচ্ছে। চালকবিহীন বিমান সরবরাহের ক্ষেত্রে তুরস্ক পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অংশীদার হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে 'বায়রাকতার টিবি২' এবং অন্যান্য কৌশলগত ব্যবস্থা সরবরাহ করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির এই সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিচ্ছেন। পাকিস্তানের সামরিক শক্তির আধুনিকীকরণর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ড্রোন, দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম চালকবিহীন প্ল্যাটফর্ম এবং 'লোইটারিং মিউনিশন' (loitering munitions)-এর উপর দেশটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করে।
এর আগেও পাকিস্তান তাদের পশ্চিমা সীমান্তে নজরদারি ও হামলার মিশনে তুর্কি ড্রোন ব্যবহার করেছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থাকতে সক্ষম এমন ইউএভি (UAV) এবং 'লোইটারিং মিউনিশন' (loitering munition) আরও বেশি সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই, দুই দেশের মধ্যে তুর্কি সি-১৩০ (C-130) বিমানের সাম্প্রতিক এই যাতায়াত মূলত ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পাকিস্তানের একটি বৃহত্তর ও বৈচিত্র্যময় চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) বহর গড়ে তোলার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
তুরস্কের C-130 বিমান কেন পাকিস্তানে যাতায়াত করেছে?
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ১৯ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে তুরস্কের C-130 Hercules পরিবহন বিমান পাকিস্তানের নূর খান ও মাসরুর বিমানঘাঁটিতে একাধিকবার যাতায়াত করেছে। এর উদ্দেশ্য নিয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
পাকিস্তানের কোন কোন বিমানঘাঁটিতে তুর্কি বিমান দেখা গেছে?
রাওয়ালপিন্ডির কাছে নূর খান বিমানঘাঁটি এবং করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটিতে তুর্কি C-130 বিমানের আনাগোনা লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তান কি তুরস্কের কাছ থেকে ড্রোন পাচ্ছে?
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানে ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এই দাবির বিস্তারিত প্রকাশ্যভাবে নিশ্চিত হয়নি।
পাকিস্তান কোন তুর্কি ড্রোন ব্যবহার করে?
পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে Bayraktar TB2 ড্রোনের নাম উল্লেখযোগ্য। এটি মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম একটি সশস্ত্র কৌশলগত UAV।
পাকিস্তান কি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাচ্ছে?
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ড্রোন সরঞ্জামের পাশাপাশি পাকিস্তান তুরস্কের কাছ থেকে HQ সিরিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে বা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই।