
Ukraine Drone Strikes Hit Russia: রাশিয়ার বড় তৈল শোধনাগার সহ জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে ফের বড়সড় হামলা চালাল ইউক্রেন। কৃষ্ণসাগর উপকূলের ক্রাসনোদার অঞ্চলের তুয়াপসে শহরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও রফতানি টার্মিনালে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এপ্রিল মাসজুড়েই একাধিকবার এই হামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ ও ২০ এপ্রিলের আক্রমণ ছিল সবচেয়ে বড়। এবার মঙ্গলবার গভীর রাতেও ওই এলাকায় আবার আঘাত হানার দাবি উঠেছে। রাশিয়ার তেল সংস্থা রোসনেফ্ট (Rosneft)-এর মালিকানাধীন এই তুয়াপসে শোধনাগার প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াকরণ করত।
এখান থেকে উৎপাদিত অধিকাংশ জ্বালানি কৃষ্ণসাগর হয়ে রফতানি করা হত। তবে সাম্প্রতিক হামলায় মূলত জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্কগুলিকেই নিশানা করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, মোট ৪৭টি ট্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত ২৮টি সম্পূর্ণ ধ্বংস বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ৫২ শতাংশ। আরও কিছু ট্যাঙ্ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কার্যত গোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে।
দেখুন ড্রোন হামলার পর সেখানে কী হল
হামলার পরই শোধনাগার জুড়ে ভয়াবহ আগুন লাগে, যা কয়েকদিন ধরে জ্বলতে থাকে। দমকল বাহিনী টানা বহুদিন ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট সময় লাগে। আগুনের জেরে ১৬ এপ্রিলের হামলার পর থেকেই শোধনাগারের কাজকর্ম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে তুয়াপসে বন্দরের পরিবহণ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রফতানিতে বড় ধাক্কা লাগে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার ঘন স্তর ছড়িয়ে পড়ে, যা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা যায়। দীর্ঘস্থায়ী আগুনের জেরে তুয়াপসে শহরের বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। এমনকি তেল মিশ্রিত কালো বৃষ্টির মতো পদার্থ পড়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাড়িঘর, রাস্তা এবং কৃষ্ণসাগরের উপকূল পর্যন্ত কালো কালি ও দূষণে ঢেকে যায়।
এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই এই ঘটনাকে "দুঃস্বপ্ন" বলে বর্ণনা করেছেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে তাদের ড্রোন ইউনিট, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন ও রফতানিতে বড় ধাক্কা দিতেই এই ধরনের কৌশলগত হামলা চালানো হচ্ছে।