
লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোয় প্রবল বৃষ্টিতে একের পর এক বিপর্যয়। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের অতিবৃষ্টির জেরে শহরের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোয় প্রবল বৃষ্টিতে একের পর এক বিপর্যয়। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের অতিবৃষ্টির জেরে শহরের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও নদী ও জলনিকাশি নালা উপচে জল ঢুকেছে বাড়িতে, কোথাও জলমগ্ন রাস্তায় আটকে পড়েছে যানবাহন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুলও। শহরের উত্তর ও দক্ষিণ, দুই এলাকাতেই একাধিক জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
২৫ অক্টোবরের প্রবল বৃষ্টিতে দক্ষিণ কুইটোর কুইব্রাদা তুরুবাম্বা ও রিও কাউপিচো উপচে পড়ে। লা লুচা দে লস পোব্রেস এলাকায় বাড়িঘরে কাদা ও জল ঢুকে পড়ে। জল জমে যায় রাস্তা এবং একটি স্কুলের চত্বরেও। অন্যদিকে, শহরের উত্তরে লা দেলিসিয়া এলাকায় ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে একজন আহত হন বলে খবর। ২৬ অক্টোবরেও ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতির অবনতি হয়। লা কোচা ও গুয়ামানির মতো এলাকায় রাস্তায় জলস্রোত তৈরি হয়। কুম্বায়া এলাকায় ভূমিধস, গাছ ভেঙে পড়া এবং রাস্তার একাংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এর আগেও অক্টোবর মাসে একাধিকবার প্রবল বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের জেরে বিপর্যস্ত হয়েছে কুইটো। কোথাও বাড়িতে জল ঢুকেছে, কোথাও দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। লাস কাসাস এলাকায় বৃষ্টির জলে ভেসে যায় চারটি পার্ক করা গাড়ি। জল জমার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল কুইটো মেট্রোর পরিষেবাও।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধারকাজ ও জল সরানোর কাজে নেমেছে দমকল, পুরসভা এবং বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা সংস্থা। আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলমগ্ন রাস্তা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে ECU 911-এ খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতির পিছনে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হলেও, নির্দিষ্ট আবহাওয়াগত কারণ নিশ্চিত করতে সরকারি আবহাওয়া সংস্থার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত অতিবৃষ্টি, জলনিকাশি ব্যবস্থার উপর চাপ এবং নিচু এলাকায় দ্রুত জল জমে যাওয়াই কুইটোর বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।