রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে ভারত মধ্যস্থতা করতেও প্রস্তুত: বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর

Published : Sep 03, 2026, 04:31 PM IST
Union external affairs minister S Jaishankar says India ready to help end Russia Ukraine war

সংক্ষিপ্ত

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের চেষ্টায় সম্ভাব্য সব উপায়ে অবদান রাখতে ভারত প্রস্তুত বলে জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার কিভ সফরে তিনি এ কথা বলেন। ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের জয়শঙ্কর বলেন, "ভারত যদি কোনওভাবে কোনও সহায়তা করতে পারে, তবে আমরা প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে ভারত মধ্যস্থতা করতেও প্রস্তুত।"

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের চেষ্টায় সম্ভাব্য সব উপায়ে অবদান রাখতে ভারত প্রস্তুত বলে জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার কিভ সফরে তিনি এ কথা বলেন। ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের জয়শঙ্কর বলেন, "ভারত যদি কোনওভাবে কোনও সহায়তা করতে পারে, তবে আমরা প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে ভারত মধ্যস্থতা করতেও প্রস্তুত।" উভয় মন্ত্রী বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন। জয়শঙ্কর জানান, তাঁদের আলোচনায় এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সিবিহা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানের চেষ্টায় এখন একটি নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে, কারণ বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে সক্রিয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আবার শুরু হয়েছে। কিয়েভে সাংবাদিকদের সিবিহা বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের অনেক রাজধানীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার এই সক্রিয় পর্যায় ফিরে আসার ফলে শান্তি প্রচেষ্টায় এখন একটি নতুন গতিশীলতা আসবে।" তাঁর এই মন্তব্যের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বলেছেন যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছনোর সুযোগ রয়েছে, যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে আলোচনা পুনরায় শুরু করা এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

একটি অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, "কোনও সুযোগ আছে কি? আমার মতে, হ্যাঁ, সুযোগ আছে।" তিনি আরও জানান যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন-সহ বেশ কয়েকটি দেশ শান্তি সমঝোতায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে পুতিন বলেন, সংঘাত সমাধানের চূড়ান্ত দায়ভার রাশিয়া ও ইউক্রেনের উপরই বর্তায়। তিনি বলেন, "তবে শেষ পর্যন্ত, সংঘাতের সঙ্গে জড়িত দেশগুলোকেই—অর্থাৎ রাশিয়া ও ইউক্রেনকেই—এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সমঝোতায় অবদান রাখার চেষ্টাকারীদের প্রতি মস্কো কৃতজ্ঞ।

রুশ প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং রুশ আকাশসীমার উপর দিয়ে চলাচলকারী অসামরিক বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা জারির অভিযোগও আনেন। তিনি এগুলোকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে এসব কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সপ্তাহে বিমান সংস্থা ও বিমা কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ইউক্রেনীয় ড্রোন উপস্থিতির কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ইউক্রেন কেবল রাশিয়ার সামরিক জায়গাকেই লক্ষ্যবস্তু করবে এবং অসামরিক বিমানের জন্য কোনও হুমকি সৃষ্টি করবে না। এছাড়া বুধবার ইউক্রেন রাষ্ট্রসংঘের এভিয়েশন সংস্থাকে (আইসিএও) আহ্বান জানায় যেন তারা সদস্য দেশগুলোকে রাশিয়ার আকাশসীমায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের জন্য ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে।

সাড়ে চার বছরের যুদ্ধের পর মুখোমুখি অবস্থান মূলত অপরিবর্তিত রয়েছে এবং গত ফেব্রুয়ারি থেকে কোনও সরাসরি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার বিমান হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথেও সংঘাত তীব্র হয়েছে, যার মধ্যে বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুতিন বলেন, "আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পক্ষে। এর ফলাফল ওয়াশিংটনের উপরেও নির্ভর করবে। ট্রাম্প ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আমি বিশ্বাস করেন।' পুতিনের মতে, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে সিআইএ (CIA)-র ডিরেক্টর জন র‍্যাটক্লিফ মস্কোতে রাশিয়ার গোয়েন্দা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনও পক্ষই বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Tibet: হড়পা বানের পর এবার ভূমিকম্প, বিধ্বস্ত তিব্বতে ফের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা
মুহূর্তে বিপর্যয়! শেষ ১০ বছরে বারে বারে দুর্যোগ নেমে এসেছে নেপালে, ভেসে গিয়েছে হাজার হাজার প্রাণ