US China Trade Deal: ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক চুক্তি

Published : Sep 27, 2026, 09:52 AM IST
US China Trade Deal: ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক চুক্তি

সংক্ষিপ্ত

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের তিন দিনের বৈঠকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক চুক্তিতে সায় দিয়েছে আমেরিকা ও চিন। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

হোয়াইট হাউসের একটি ফ্যাক্ট শিট বা তথ্য বিবরণী থেকে জানা গিয়েছে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশই একে অপরের ৩০ বিলিয়ন ডলারের অ-সংবেদনশীল পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। এছাড়া নতুন প্রযুক্তি নিয়ে একটি নতুন আলোচনাও শুরু করেছে তারা।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আমেরিকা ও চিন তাদের 'বোর্ড অফ ট্রেড' এবং 'বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট'-এর কাজ পুরোদমে শুরু করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে বেজিংয়ে হওয়া বৈঠকে এই বোর্ডগুলো তৈরি হয়েছিল। বোর্ড অফ ট্রেডের অধীনে, ওয়াশিংটন ও বেজিং একে অপরের ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া কৃষিক্ষেত্রে বাজারের বাধাগুলো দূর করতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরি করেছে এই বোর্ড।

আমদানি ও রফতানির খুঁটিনাটি

চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকা থেকে যে পণ্যগুলো রফতানি হবে তার মধ্যে রয়েছে কৃষিজাত পণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাবার, কাঠ, প্রসাধন সামগ্রী এবং চিকিৎসার যন্ত্রপাতি। অন্যদিকে, আমেরিকা চিন থেকে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি, খেলনা, উৎসবের সাজসজ্জা এবং বাচ্চাদের গাড়ির সিট আমদানি করবে। ফ্যাক্ট শিটে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে চিন অন্তত ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন মার্কিন কয়লা কিনবে। পাশাপাশি, বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট বিনিয়োগের সুযোগ ও বাধাগুলো নিয়ে আলোচনা করবে এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে একটি নির্দিষ্ট পথ তৈরি করবে।

রেয়ার আর্থ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ঘাটতি মেটাতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকে।

কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক আলোচনা

জি-২০ (G20) এবং অ্যাপেক (APEC)-এর আয়োজক হিসেবে একে অপরকে সমর্থন করার পাশাপাশি, সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটি "গঠনমূলক কৌশলগত সম্পর্ক" গড়ে তুলতে রাজি হয়েছে আমেরিকা ও চিন। ট্রাম্প ও জিনপিং রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরান নিয়েও কথা বলেছেন। তাঁরা একমত হয়েছেন যে, ইরানের কাছে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এবং "কোনও দেশ বা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বসাতে পারবে না।"

নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা

নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশ "সুপার ইন্টেলিজেন্স" (SI) শব্দটি ব্যবহার করতে রাজি হয়েছে। এর সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার জন্য 'ইউএস-চিন সুপার ইন্টেলিজেন্স ডায়ালগ' তৈরি করা হয়েছে।

২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে পরবর্তী এসআই (SI) বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া এসআই সংক্রান্ত কোনও ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও তৈরি করবে।

বৈঠকের সমাপ্তি ও আগামী পরিকল্পনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা ও চিনের জোটের কথাও মনে করিয়ে দেন দুই নেতা। ট্রাম্প আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে সওয়াল করেন। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) জিনপিং ও ট্রাম্পের তিন দিনের এই বৈঠক শেষ হয়। শনিবার (স্থানীয় সময়) বেজিংয়ে ফিরে যান জিনপিং।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি জিনপিংয়ের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের জন্য মুখিয়ে আছেন। নভেম্বরে চিনে এবং ডিসেম্বরে মায়ামিতে জি-২০ সামিটে দুই নেতার ফের দেখা হওয়ার কথা। ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, "প্রেসিডেন্ট শি এবং ম্যাডাম পেং এইমাত্র ডিসি ছেড়ে চিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এই বৈঠকটি চিন এবং আমেরিকা উভয়ের জন্যই বন্ধুত্ব, শক্তি এবং সাফল্যের ছিল। আমরা নভেম্বরে চিনে এবং তারপর ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার মায়ামিতে জি-২০ তে আবার দেখা করব। অনেক কিছু হয়েছে, এবং আরও অনেক কিছু হবে। আমি আমাদের পরবর্তী বৈঠকের জন্য অপেক্ষায় আছি!"

শি জিনপিংয়ের এই তিন দিনের মার্কিন সফরটি ছিল ছ'মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বৈঠক। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনও চিনা প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে এলেন। আর এই প্রথম কোনও চিনা নেতা আমেরিকায় দু'বার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর করলেন।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Chile Flood: ৩০ বছরের সবচেয়ে বড় বন্যা চিলিতে, ২০০ মিমি বৃষ্টিতে ডুবেছে দোতালা বাড়িও
Bangladesh News: মাথায়-বুকে আঘাত, ময়মনসিংহে ড্রাম থেকে উদ্ধার হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ