দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর আমেরিকা ও ইরান অবশেষে আলোচনায় বসতে চলেছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিবাদ মেটাতে মঙ্গলবার দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করবেন। আপাতত একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের সংঘাত কি এবার থামতে চলেছে? Axios-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এক সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মেটাতে রাজি হয়েছে। এই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার দোহায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিবাদ মেটাতে বৈঠকে বসবে তারা।
এক সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা Axios-কে জানিয়েছেন, "আমরা সব ধরনের সামরিক হানা বা হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
26
মঙ্গলবার দোহাতে বৈঠক
আরেকজন কর্মকর্তা Axios-কে বলেছেন যে দুই পক্ষই "আপাতত" শান্ত থাকবে এবং "জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারবে"। এই নিয়েই টেকনিক্যাল স্তরে আলোচনা চলবে। মঙ্গলবার দোহায় এই বৈঠকের কথা দুই মার্কিন কর্মকর্তার পাশাপাশি তৃতীয় একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে।
তবে মাত্র ১১ দিন আগে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি বেশ ভঙ্গুর। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ইরান যদি কথা না শোনে, তাহলে তিনি যুদ্ধ আবার শুরু করে 'কাজ শেষ করে ছাড়বেন'।
36
হরমুজ প্রণালী
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার (স্থানীয় সময়) বলেছেন, প্রাথমিক শান্তি চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার একচেটিয়া অধিকার ইরানের। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই খবর জানিয়েছে।
এই বিষয়টি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে। আমেরিকার যুক্তি, চুক্তি অনুযায়ী ইরান এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পায়নি এবং এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হওয়ায় এখানে নৌচলাচল অবাধ থাকতে হবে। ওমানের উপকূল ঘেঁষে একটি জাহাজ প্রণালী পার করার চেষ্টা করলে ইরান সেটির ওপর হামলা চালায়।
56
যুদ্ধ বিরতি নিয়ে তেহরানের বার্তা
এরপরই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। তেহরান চায়, জাহাজগুলো তার উপকূল বরাবর একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করুক এবং তারা অন্য পথ ব্যবহার করার বিরুদ্ধে সতর্কও করেছিল।
66
হরমুজের দায়িত্ব ইরানের হাতে
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, জুনের শুরুতে ট্রাম্পের সই করা চুক্তি অনুযায়ী, প্রণালী খোলার দায়িত্ব ইরানের ওপর দেওয়া হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তার সর্বোত্তম প্রচেষ্টা ব্যবহার করে ব্যবস্থা করবে" এবং ইরান, এই অঞ্চলের অন্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে, প্রণালীর প্রশাসন ও সামুদ্রিক পরিষেবার ভবিষ্যতের শর্তাবলী নির্ধারণ করবে।