Khamenei on US & Israel: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিনা স্কুলে ছাত্রীমৃত্যুর ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ডাক দিয়েছেন। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি অভিযোগ করেছেন যে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের নেতারা ইরানের বিরুদ্ধে করা অপরাধ নিয়ে নির্লজ্জভাবে গর্ব করছেন। এই সংঘাতে ইরানে মৃত্যুর ঘটনার জন্য তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আমেরিকা ও ইজরায়েলকে তুলোধনা খামেনির

ইরানে 'জাতীয় বিচার বিভাগ সপ্তাহ' উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ কয়েকটি পোস্টে খামেনি এই কথা বলেন। তিনি লিখেছেন, "মার্কিন-ইহুদি শত্রুদের কিছু নেতার এই অপরাধগুলো নিয়ে স্বীকারোক্তি এবং নির্লজ্জ আস্ফালন নিঃসন্দেহে অপরাধ কবুল করার সামিল। আর এটাই ইরানি জাতির লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দেয়।"

খামেনি ইরানের বিরুদ্ধে হওয়া যুদ্ধাপরাধ এবং মিনা স্কুলে ছাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান।

তিনি X-এ আরও বলেন, "দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ইরানের প্রত্যেক নাগরিকের উপর যে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে, তার প্রত্যেকটি এক একটি আইনি মামলা। মিনা ও ল্যামের্ডে শিশুহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা পর্যন্ত—সব মামলাই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে লড়তে হবে... নবজাতক হত্যা থেকে শুরু করে আমাদের প্রিয় বয়স্কদের হত্যা—এবং সর্বোপরি, আমাদের যুগের অতুলনীয় রত্ন, আমাদের মহান মুজাহিদ নেতার শাহাদত—এই হাজার হাজার বড় আইনি মামলার প্রত্যেকটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে গুরুত্ব দিয়ে লড়া উচিত।"

মার্কিন হামলার নিন্দা ইরানের

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিদেশ মন্ত্রক রবিবার ভোরে দেশের দক্ষিণ উপকূলে নজরদারি চালানোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলার নিন্দা করেছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "এই নৃশংস হামলা রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ২ নম্বর ধারার ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। একইসঙ্গে এটি ১৮ জুন, ২০২৬ তারিখের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদেরও নির্লজ্জ লঙ্ঘন। এর থেকে বোঝা যায়, মার্কিন সরকার নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনও মূল্য দেয় না। এই বিশ্বাসঘাতকতা তাদের স্বভাবের অংশ।"

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টা জবাব হিসেবে আমেরিকা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত করার জায়গা এবং উপকূলীয় রাডার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি এই লঙ্ঘন চালিয়ে যায়, তবে তাদের মুছে ফেলা হবে।

এর আগে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছিল যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে অতিরিক্ত হামলা চালিয়েছে।

এর জবাবে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) রবিবার দাবি করেছে যে তারা একটি যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানে কুয়েত ও বাহরাইনে আমেরিকার আটটি সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের মতে, ইরানের উপর মার্কিন হামলার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রতিশোধ হিসেবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

IRGC জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন আগ্রাসনের ' জবাব' হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।