
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি ইরানের শক্তি পরিকাঠামোর ওপর বিমান হানার কথা ভাবছেন। উদ্দেশ্য একটাই—তেহরানকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে বাধ্য করা। Axios-এর একটি রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
এক মার্কিন আধিকারিকের কথা উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও, ইরানের পরিকাঠামো এবং শক্তি কেন্দ্রগুলিতে হামলার বিষয়েই আলোচনা চলছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হল, যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাঝে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো। Axios আরও জানিয়েছে যে, এই অভিযানে ইজরায়েলও যোগ দিতে পারে। যদি তা হয়, তবে গত কয়েক সপ্তাহে এই প্রথম ইজরায়েল সরাসরি ইরানের ওপর হামলা চালাবে। এর ফলে ইজরায়েলের ওপর নতুন করে ইরানের মিসাইল হামলা শুরু হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন আধিকারিকরা মনে করছেন যে, সম্প্রতি এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার পর ইরান "খুবই আগ্রাসী" হয়ে উঠেছে। এই খবরের সঙ্গে The Wall Street Journal-এর একটি রিপোর্টেরও মিল রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তেহরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই অভিযান চলতি সপ্তাহান্তেই শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে, CBS News জানিয়েছে যে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের তেল শোধনাগার এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির মতো শক্তি কেন্দ্রগুলিতে বিমান হানার পরিকল্পনা করছে। চ্যানেলটি আরও জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এই অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। এমনকি, হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট বৈঠকে তাঁর কয়েকজন সহযোগী এর বিরুদ্ধে আপত্তিও জানিয়েছেন।
এই রিপোর্টগুলি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কিছুদিন আগেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হ্যাগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও আজ ক্যাম্প ডেভিডে এক মন্তব্যে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা ওদের ওপর খুব জোরদার আঘাত হানব। আর আপনারা জানেন, একটা সময়ে ওরা বলবে, 'আমরা আর সহ্য করতে পারছি না'।"
এর আগেও ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চলতে থাকলে তিনি ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেবেন।
উল্লেখ্য, ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে। কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সব পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত বজায় রেখেছে। ফলে উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণই সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।