Russian Oil: ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দিল আমেরিকা।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল পথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান জানিয়ে দিয়েছে এই জলপথ দিয়ে মার্কিন জাহাজ তারা যেতে দেবে না। বাকি সব দেশের জাহাজ চলাচলে অবশ্য কোনও বাধা দেয়নি ইরান। এই পরিস্থিতিতে সুর নরম করল আমেরিকা।
26
মার্কিন ঘোষণা
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্বালানি নীতির ফলে আমেরিকায় তেল ও গ্যাসের উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশ্ব বাজারে যাতে তেলের জোগান স্বাভাবিক থাকে, তার জন্য ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে রুশ তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি অস্থায়ী ছাড় দিচ্ছে। এই স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থার ফলে রাশিয়া আর্থিকভাবে খুব বেশি লাভবান হবে না, কারণ এই ছাড় শুধু সেই তেলের জন্য যা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে আটকে আছে। ভারত আমেরিকার এক গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী, এবং আমরা আশা করছি যে নয়াদিল্লি আমেরিকার থেকে তেল কেনা বাড়াবে। ইরান যেভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে, তা সামাল দিতেই এই অস্থায়ী ব্যবস্থা।"
36
রুশ তেলে ছাড়
ভারতকে রুশ তেল কেনার অনুমতি এমন সময় দেওয়া হল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হানায় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি এবং অন্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিহত হন। এর পরেই মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভারত তার মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এই অঞ্চল থেকে করে, যার একটি বড় অংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আনা হয়।
সূত্রের খবর, ভারত দিনে দু'বার তার জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে বেশ স্বস্তিদায়ক জায়গায় রয়েছে।
ভারতের বর্তমান মজুত পরিস্থিতিও যথেষ্ট ভালো এবং প্রতিদিন সেই ভান্ডার পূরণ করা হচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বে এলপিজি, এলএনজি বা অপরিশোধিত তেলের কোনও অভাব নেই।
56
ভারতের নজর
সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে যে, ভারত অন্যান্য সরবরাহকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। ভারত অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে, তবে পর্যাপ্ত মজুত এবং বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানির কারণে যেকোনো সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
ভারত আগের চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, দেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশ্ব জ্বালানি বাজারের উপর কড়া নজর রাখছে।
66
আমেরিকার বাধা
দীর্ঘ দিন ধরেই ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনে। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। তাতেই আমেরিকা ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে বাধা দিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আমেরিকাই আবার রাশিয়ার তেল কিনতে বলেছে ভারতকে।