ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ২০২৬ সালের জুনে ভারতে আসছে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল। এই সফরের মূল লক্ষ্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্ত করা এবং বাজার অ্যাক্সেস, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিতে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে আমেরিকার একটি প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক সূত্রে এই খবর জানা গেছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চিফ নেগোশিয়েটরের নেতৃত্বে এই দলটি ২০২৬ সালের ১ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ভারতে থাকবে। বুধবার মন্ত্রকের তরফে একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, চিফ নেগোশিয়েটরের নেতৃত্বে মার্কিন দলটি ১ থেকে ৪ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত ভারত সফর করবে। এই সফরের উদ্দেশ্য হল প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করা এবং বৃহত্তর BTA-এর অধীনে বাজার অ্যাক্সেস, শুল্ক নয় এমন বাধা (Non-Tariff Measures), কাস্টমস ও বাণিজ্য সরলীকরণ, বিনিয়োগ প্রচার এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।"

আলোচনার প্রেক্ষাপট ও মূল বিষয়

এর আগে, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছিল। সেখানে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যের উপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামোয় দুই পক্ষই সম্মত হয়েছিল। সেই কাঠামোতে বৃহত্তর ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে, একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ডিসি সফর করে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের আসন্ন ভারত সফরের সময় বাজার অ্যাক্সেস, শুল্ক পদ্ধতি, শুল্ক-বহির্ভূত বাধা, বাণিজ্য সহজ করার উপায় এবং বিনিয়োগ প্রচারের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায়, এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও কথা হবে। প্রস্তাবিত এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করা এবং বিনিয়োগের সুযোগ উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই পক্ষের কর্মকর্তারা অমীমাংসিত বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিষয়গুলি সমাধানের পাশাপাশি গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ খোঁজার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।