US-Iran Deal: জেডি ভেন্সের ইউ-টার্ন, হরমুজে নতুন ট্যাক্স! ট্রাম্প-পজিশকিয়ান চুক্তিতে ফের জট?

Published : Jun 18, 2026, 01:33 PM IST
US-Iran Deal: জেডি ভেন্সের ইউ-টার্ন, হরমুজে নতুন ট্যাক্স! ট্রাম্প-পজিশকিয়ান চুক্তিতে ফের জট?

সংক্ষিপ্ত

আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে ঐতিহাসিক চুক্তি সই হলেও শান্তি কি আদৌ ফিরবে? একদিকে হরমুজ প্রণালীতে ট্যাক্স বসানোর হুমকি দিচ্ছে ইরান, অন্যদিকে আমেরিকা আর্থিক সাহায্য দিতে নারাজ। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। ভার্সাই প্যালেসে হওয়া এই চুক্তি কি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারবে?

তেল আভিভ/তেহরান/ওয়াশিংটন ডিসি: বিশ্ব রাজনীতি আর যুদ্ধের ময়দান থেকে এই মুহূর্তে একটা দারুণ চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ শেষ করতে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে সই হয়ে গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার রাতে ফ্রান্সের সেই বিখ্যাত ভার্সাই প্যালেসে (Versailles Palace) এই গোপন চুক্তিপত্রে (MoU) সই করেছেন, যেখানে ১০৭ বছর আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ করার জন্য ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই মেগা-ডিলের সময় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ট্রাম্পের পরেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ যা করলেন

ট্রাম্প সই করার পরেই, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পজিশকিয়ান তেহরান থেকে ইলেকট্রনিকভাবে (ডিজিটাল) এই চুক্তিতে সম্মতি জানান। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোর ৫:৩০ মিনিটে এই চুক্তির কথা ঘোষণা হতেই গোটা বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এর সাথে সাথেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, এই শান্তি চুক্তির মধ্যেই ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের একটি মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

সময়ের আগেই ডিজিটাল চমক: লুসার্নের বদলে ভার্সাই প্যালেস কেন?

এই শান্তি চুক্তি নিয়ে সাসপেন্স এতটাই ছিল যে, এটি ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরে সই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে ফ্রান্সের ভার্সাই প্যালেসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইতিহাস যেন নিজেকেই পুনরাবৃত্তি করছে; যেখানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছিল, ট্রাম্প সেখান থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের এই মহাসংকট সমাধানের বার্তা দিলেন। যদিও, ইরানের অন্দরে এই গোপনীয়তা এবং তাড়াহুড়ো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইরানের সাংসদ মালেক শরিয়তি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোরানের আয়াত শেয়ার করে ট্রাম্পের সই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, "ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিতে কেউ বিশ্বাস করে না, শুধু সই করাটা কোনও গ্যারান্টি নয়।"

"চুক্তি ভাঙলে ফের বোমা ফেলব" - ইরানকে ট্রাম্পের শেষ ও ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি

চুক্তিতে সই করার পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের পিঠ চাপড়ে বলেন, "আমেরিকার সব লক্ষ্য পূরণ হয়েছে এবং আমরা যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি পেয়েছি।" ট্রাম্পের মতে, তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ থামানো, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা, যা তিনি করে দেখিয়েছেন। কিন্তু এর সাথেই তিনি তেহরানকে এক ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, "যদি ইরান এই ১৪-দফা চুক্তির একটি শর্তও লঙ্ঘন করে, তাহলে তাদের ওপর আবার ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করা হবে।" ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে এই সামরিক অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও (UAE) ইরানের ওপর প্রচুর বোমা ফেলেছিল।

জেডি ভেন্সের নাটকীয় ইউ-টার্ন: "ইরানকে আমেরিকার একটা ডলারও দেওয়া হবে না!"

এই ১৪-দফা খসড়া চুক্তি অনুযায়ী খবর ছিল যে, আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশগুলো মিলে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় আর্থিক তহবিল তৈরি করবে। কিন্তু এই খবরে জল ঢেলে দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স। তিনি কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজের খবর সম্পূর্ণ ভুল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "যদি ইরান সব শর্ত মেনে চলে, তাহলে বিশ্বের অন্য দেশ সেখানে বিনিয়োগ করতে পারে, কিন্তু মার্কিন সরকার নিজের পকেট থেকে ইরানকে একটি ডলারও দেবে না।" ভেন্সের এই মন্তব্যে চুক্তির আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।

হরমুজে নতুন ট্যাক্সের ফাঁদ: "যুদ্ধের আগের পরিস্থিতি আর ফিরবে না!"

চুক্তি অনুযায়ী ঠিক হয়েছে যে, আপাতত ৬০ দিন হরমুজ প্রণালী টোল-ফ্রি থাকবে এবং সেখান থেকে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কোনও ট্যাক্স নেওয়া হবে না। কিন্তু ইরানের পার্লামেন্টের প্রভাবশালী স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সরকারি টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার ঘুম উড়িয়ে দিয়েছেন। গালিবাফ খোলাখুলি ঘোষণা করেছেন যে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আর কখনও যুদ্ধের আগের মতো হবে না। এই কৌশলগত পথের ওপর ইরানের সম্পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার রয়েছে এবং ৬০ দিন পর এখান দিয়ে যাওয়া সমস্ত জাহাজের থেকে মোটা অঙ্কের ট্যাক্স (শুল্ক) আদায় করা হবে। তিনি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি তার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তাহলে ইরানও শর্ত ভাঙবে।

পারমাণবিক সাসপেন্স: ৬০% পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের ভান্ডারের কী হবে?

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত ইরান ৬০% পর্যন্ত ইউরেনিয়াম পরিশোধন করেছিল এবং তাদের কাছে ৪০০ কিলোগ্রামের বিপজ্জনক ভান্ডার মজুত রয়েছে। যদিও এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না, কিন্তু প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে পরমাণু কর্মসূচির চূড়ান্ত সমাধান এখনও বাকি। এই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দুই দেশকে ইউরেনিয়াম পরিশোধন সীমিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শেষ করতে হবে।

লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে জট

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রামি খৌরি সতর্ক করেছেন যে লেবানন থেকে ইজরায়েলি সেনার সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এত তাড়াতাড়ি হবে না। চূড়ান্ত চুক্তি হতে ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগতে পারে এবং ইজরায়েল নিরাপত্তার অজুহাতে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখবে। তবে, এই শান্তি চুক্তির সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে বাজারে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৮.৬৬ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত মাসে ১২৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন দেখার বিষয়, এই কাগুজে শান্তি বাস্তবে কতটা টেকসই হয়, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় কোনও বিস্ফোরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়!

ইরানেও উঠছে প্রশ্ন, আমেরিকাকে বিশ্বাস করবে তেহরান?

ইরানের সাংসদ মালেক শরিয়তি ট্রাম্পের সই নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন যে শুধু স্বাক্ষর কোনও গ্যারান্টি নয়। তিনি আমেরিকার পুরনো সিদ্ধান্তের উদাহরণ দিয়ে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই ১৪-দফা খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি, পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং সমুদ্রপথে যাতায়াত স্বাভাবিক করার মতো শর্ত রয়েছে। এখন গোটা বিশ্বের নজর এই দিকেই যে, ভার্সাই প্যালেস থেকে শুরু হওয়া এই শান্তি উদ্যোগ সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে পারবে, নাকি এটা শুধু একটা সাময়িক বিরতি প্রমাণ হবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ব্রহ্মপুত্রে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে চিন, ভারতের জন্য কেন তা উদ্বেগের কারণ?
US-Iran Deal: সই হতেই সুর চড়াল তেহরান, তেল-টাকা-হরমুজ নিয়ে রাখল কঠিন শর্ত