
US-Israel Attacks Iran: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ইজরায়েলের ইরানে ওপর হামলার পর তেহরানের পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল যুদ্ধ। তেহরান সহ দেশের নানা অংশে ইজরায়েলের টানা বোমা বর্ষণের পর পাল্টা দিয়ে একের পর এক দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি ও এয়ারবেসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল তেহরান। সবার আগে বাহারিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিতে মিসাইল হামলা হয়। এরপর সংযুক্ত আরবআমিরশাহির আবুধাবি, কুয়েত, কাতারের বিভিন্ন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে ইরানের মিসাইল। হামলার খবর এসেছে জর্ডন থেকেও। হামলার পর বাহরিনে সাইরেন বেজে ওঠে।
কুয়েত ও সংযুক্ত আমিরশাহিতে সাময়িকভাবে আকাশপথ বন্ধ রাখে। জর্ডন, কাতার ও ইউএই-তে মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের 'শেল্টার-ইন-প্লেস' নির্দেশ জারি করে। জেরুজালাম সহ ইজরায়েলের বিভিন্ন অংশ লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া হয় ব্য়ালিস্টিক মিসাইল। ইরানের হামলায় আবুধাবি থেকে একজনের মৃত্যুর খবর আসছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলায় মার্কিন সামরিক সম্পদের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। যদিও ইজরায়েলের দাবি, ইরান থেকে উড়ে আসা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত করা হয়েছে। বিশেষত কাতারে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। হতাহতের সংখ্যা বা প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়।
বাহারিনে মার্কিন নৌবহরের সদর দফতরে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার ভিডিও
আল উদেইদ এয়ার বেস, কাতার: দোহার দক্ষিণ-পশ্চিম মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। এখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকে। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দফতর হিসেবেও কাজ করে।
এয়ার আল সালেম এয়ার বেস, কুয়েত: ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটি 'দ্য রক' নামেও পরিচিত। ৩৮৬তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং এখানে মোতায়েন থাকে। ইরাক, সিরিয়া-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
কুয়েতে হামলা
আল ধাফরা এয়ার বেস,সংযুক্ত আরব আমিরশাহী: আবু ধাবির দক্ষিণে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে অতীতে এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান ও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন ছিল। আইএসআইএস বিরোধী অভিযানে এই ঘাঁটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নেভেল সার্পোট অ্যাক্টিভিটি, বাহারিন: মানামার এই ঘাঁটিতেই রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর। বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বিস্ফোরণ, সাইরেন এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশের কথা জানিয়েছে।
শনিবার ভোরে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বড়সড় হামলা চালায়। তেহরান-সহ একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক পরিকাঠামোকে নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'অপারেশন এপিক ফিউরি' ঘোষণা করে জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাই লক্ষ্য। ইজরায়েলি সেনাও পশ্চিম ইরানে বিস্তৃত বিমান হামলার কথা স্বীকার করেছে। পাল্টা জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। দেশজুড়ে সাইরেন বাজে, জরুরি অবস্থা জারি হয়।