Khamenei Dead: ইরানে কি এবার 'ক্ষমতা বদল'! খামেনির মৃত্যুতেই ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণ হতে চলেছে?

Published : Mar 01, 2026, 09:10 AM IST
Khamenei Dead: ইরানে কি এবার 'ক্ষমতা বদল'! খামেনির মৃত্যুতেই ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণ হতে চলেছে?

সংক্ষিপ্ত

Khamenei Dead: ইরানে কি এবার 'ক্ষমতা বদল'! খামেনির মৃত্যুতেই ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণ হতে চলেছে?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর বড়সড় হামলা চালিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যু হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেনি বরাবরই আমেরিকার কড়া সমালোচক ছিলেন। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় সামরিক প্রস্তুতি আর দেখা যায়নি।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য একটি চুক্তির কথা বলছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সুরে সুর মিলিয়ে ইরানের সাধারণ মানুষকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ক্ষমতা থেকে হটানোর ডাক দিচ্ছেন।

খামেনির মৃত্যুর খবর জানিয়ে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, "ইরানের মানুষের কাছে নিজেদের দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ।" যদিও ইরান এখনও খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।

এই ঘটনার সঙ্গে যে সমন্বয় ছিল, তা স্পষ্ট। কারণ ট্রাম্পের ঘোষণার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের প্রয়াত শাহের ছেলে রেজা পাহলভিও বিবৃতি দেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর বাবার পতন হয়েছিল। পাহলভি প্রথমে হামলার কথা জানান এবং পরে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, খামেনির পর ইসলামিক প্রজাতন্ত্র "খুব শীঘ্রই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।"

দুটি পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, ট্রাম্পের ভাষা ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণকারী প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বুশও তখন আগাম হামলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন এবং বিতর্কিত অস্ত্রের অভিযোগ তুলেছিলেন।

অথচ ট্রাম্প নিজেই ইরাক যুদ্ধকে বুশের একটি ঐতিহাসিক ভুল বলে মনে করতেন। বুশ কিন্তু যুদ্ধের আগে কংগ্রেসের অনুমতি নিয়েছিলেন এবং জনগণের সামনে নিজের যুক্তি তুলে ধরতে অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন।

গত বছর সৌদি আরবে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, "তথাকথিত 'জাতি নির্মাতারা' যত না দেশ গড়েছে, তার চেয়ে বেশি দেশ ধ্বংস করেছে।" মজার বিষয় হল, সেই সৌদি আরবই এখন ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হচ্ছে।

ট্রাম্প নিজেকে 'শান্তির দূত' হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রচারও চালিয়েছিলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলার ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিস জিতলে "লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাবে।"

মিলার আরও লেখেন, "ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবাজরা নিজেদের সন্তানদের এমন যুদ্ধে পাঠাতে ভালোবাসে, যেখানে তারা নিজেরা কখনও লড়বে না।" তাঁর পোস্ট ছিল: "কমলা = তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ট্রাম্প = শান্তি।"

ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছিল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের হুমকি মোকাবিলা করবে “দশকের পর দশক ধরে চলা নিষ্ফল 'জাতি-গঠন' যুদ্ধ ছাড়াই।”

ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের পর থেকে ইরানের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে।

ডিসেম্বরের শেষে মূলত জিনিসপত্রের দাম বাড়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল।

কর্তৃপক্ষ নির্মমভাবে সেই বিক্ষোভ দমন করে, হাজার হাজার মানুষ নিহত হন।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাতেও শক্তি প্রদর্শনের ইচ্ছা দেখিয়েছিলেন। ৩ জানুয়ারির এক হামলায় মার্কিন বাহিনী বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়।

কিন্তু ট্রাম্পের আগের অভিযানগুলো ছিল এককালীন, যেগুলোকে তিনি দ্রুত বিজয় হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সমর্থিত গণতান্ত্রিক বিরোধীদের ক্ষমতায় না বসিয়ে, মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং উত্তরসূরি ডেলসি রড্রিগেজের সঙ্গে কাজ করছেন। এমনকি সহযোগিতা না করলে তাঁকেও হিংসার হুমকি দিয়েছেন।

ট্রাম্পের একসময়ের কট্টর সমর্থক মার্জোরি টেলর গ্রিন, যিনি পরে মতবিরোধের কারণে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন, বলেছেন, "অন্য দেশের মানুষের জন্য, অন্য দেশের ক্ষমতা বদলের জন্য আরেকটি বিদেশি যুদ্ধ" শুরু করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প আগের প্রেসিডেন্টদের থেকে আলাদা নন।

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "কিন্তু এবার বিশ্বাসঘাতকতাটা সবচেয়ে বেশি মনে হচ্ছে, কারণ এটা সেই মানুষটির কাছ থেকে এসেছে যাঁকে আমরা আলাদা ভেবেছিলাম এবং যিনি বলেছিলেন, আর নয়।"

লিবার্টেরিয়ান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো ব্র্যান্ডন বাক বলেছেন, ট্রাম্প ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতনের ডাক দিয়ে "বিজয়ের কোনও স্পষ্ট ধারণা" দেননি।

তাঁর মতে, "প্রেসিডেন্ট কৌশলগত আত্ম-প্রতারণার সেই একই ধাঁচ পুনরাবৃত্তি করছেন যা তাঁর পূর্বসূরিদের ফাঁদে ফেলেছিল – সীমিত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।"

বেশিরভাগ রিপাবলিকানই এই হামলাকে সমর্থন করেছেন। অনেকেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ডাক দিয়েছেন, যা ট্রাম্পের চেয়ে বুশের কথাই বেশি মনে করায়।

রিপাবলিকান সেনেটর জন কর্নিন বলেছেন, ইরানের সরকার "পশ্চিম এবং আমাদের মূল্যবোধের ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ" চালিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানিরা “অবশেষে মুক্ত হবে।”

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

US-Israel Iran War: ইজরায়েলি হামলায় নিহত খামেনেই! ইরানে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা
US-Israel Attacks Iran: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি, কোন পথে ফিরবেন ক্রিকেটাররা?