
ওয়াশিংটন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান পার্টি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রথম দিকের ট্রেন্ড বলছে, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অনেক এলাকাতেই এবার ডেমোক্র্যাটরা দাপট দেখাচ্ছে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। একইসঙ্গে ৩৬টি প্রদেশের গভর্নর পদেও নির্বাচন হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের ১০১টি আসনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি এগিয়ে মাত্র ৫৫টি আসনে।
সেনেট নির্বাচনে জর্জিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং নর্থ ক্যারোলিনায় ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন ওসফ জর্জিয়া থেকে, ক্রিস পাপ্পাস নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে এবং প্রাক্তন গভর্নর রয় কুপার নর্থ ক্যারোলিনা থেকে মার্কিন সেনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। ডেলাওয়্যার, নিউ জার্সি এবং ইলিনয়েস প্রদেশেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা সেনেটে জিতেছেন। তবে কেন্টাকিতে জয় পেয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।
নিম্নকক্ষের জর্জিয়া ২, ওহাইও ১১, ভার্জিনিয়া ৮ এবং ফ্লোরিডা ২৫ আসনে ডেমোক্র্যাটরা জিতেছে। আর ফ্লোরিডা ১১ এবং জর্জিয়া ৯ আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। গভর্নর নির্বাচনে ইলিনয়েস, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড এবং পেনসিলভানিয়ায় ডেমোক্র্যাটরা বাজিমাত করেছে। ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী পিছিয়ে পড়েছেন। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, সেখানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অ্যামি অ্যাক্টন এগিয়ে রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দু'বছরের শাসনের একটা বড় মূল্যায়ন হিসেবে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে। বর্তমান ফলাফল বলছে, সাধারণ মানুষ ট্রাম্পের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। দেশে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের এই খারাপ ফলের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এমনও ইঙ্গিত মিলছে যে, ট্রাম্প হয়তো এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন না। ঠিক যেমন ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তিনি পরাজয় স্বীকার না করে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার কিছু আগে হোয়াইট হাউসে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব। তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করি, কোনো একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য হারের কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নিজে প্রার্থী ছিলেন না। এছাড়া দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর ডারলিন গ্রাহাম এবং টেক্সাসের রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েও তার কোনো অনুশোচনা নেই।