ISIS Leader: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নাইজেরিয়ার সেনার সঙ্গে মিলে মার্কিন সেনা ISIS-এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে খতম করেছে। ট্রাম্পের দাবি, আবু-বিলাল আল-মিনুকি নামে ওই জঙ্গি আফ্রিকায় লুকিয়ে ছিল। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (স্থানীয় সময়) জানিয়েছেন যে, মার্কিন সেনা নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মিলে একটি 'জটিল ও নিখুঁত' সামরিক অভিযানে ISIS-এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে খতম করেছে। ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (ISIS) একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ট্রাম্পের দাবি

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি পোস্টে জানান, এই যৌথ অভিযানে আবু-বিলাল আল-মিনুকিকে খতম করা হয়েছে। তাঁর কথায়, মিনুকি 'বিশ্বজুড়ে ISIS-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড'। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, মিনুকি আফ্রিকায় লুকিয়ে ছিল এবং সেখানেই তাকে নিশানা করা হয়।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, "আজ রাতে আমার নির্দেশে, আমেরিকার সাহসী সেনা এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী মিলে একটি অত্যন্ত নিখুঁত ও জটিল অভিযান সফলভাবে শেষ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় জঙ্গিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ISIS-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু-বিলাল আল-মিনুকি ভেবেছিল সে আফ্রিকায় লুকিয়ে থাকবে। কিন্তু সে জানত না যে আমাদের সোর্সরা তার সব খবরাখবর আমাদের দিচ্ছিল।" এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য ট্রাম্প নাইজেরিয়া সরকারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি আরও লেখেন, "ও আর আফ্রিকার মানুষকে ভয় দেখাতে বা আমেরিকানদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করতে পারবে না। ওকে সরিয়ে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে ISIS-এর কার্যকলাপ অনেকটাই কমে যাবে। এই অভিযানে অংশীদার হওয়ার জন্য নাইজেরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ। ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন!"

আবু-বিলাল আল-মিনুকি

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের জুন মাসে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আবু-বিলাল আল-মিনুকিকে 'বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি' (Specially Designated Global Terrorist) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তাকে ISIS-এর একজন নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যার একাধিক ছদ্মনাম ছিল, যেমন আবুবকর মাইনোক এবং আবোর মাইনোক। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে জানানো হয়েছিল, জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার কারণে ISIS-এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

গত মাসেই নাইজেরিয়ার আদামাওয়া প্রদেশে একটি হামলার দায় স্বীকার করেছিল ISIS। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জঙ্গি সংগঠনটি জানায়, ওই হামলায় অন্তত ২৯ জন মারা গিয়েছেন। হামলাটি হয়েছিল গোম্বি লোকাল গভর্নমেন্ট এলাকার গায়াকু কমিউনিটিতে। সেখানে সশস্ত্র জঙ্গিরা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায়। গত বছর ডিসেম্বরেও মার্কিন সেনা উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় ISIS-এর বিরুদ্ধে একটি 'প্রাণঘাতী' হামলা চালায়। অভিযোগ ছিল, জঙ্গিরা সেখানে খ্রিস্টানদের হত্যা করছিল।

সেই সময়েও ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছিলেন, "আজ রাতে কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে আমার নির্দেশে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় ISIS জঙ্গি বদমাশদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী এবং মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। ওরা নিরীহ খ্রিস্টানদের নিশানা করছিল এবং নৃশংসভাবে হত্যা করছিল, যা বহু বছর, এমনকি শতাব্দীতেও দেখা যায়নি! আমি আগেই এই জঙ্গিদের সতর্ক করেছিলাম যে খ্রিস্টানদের হত্যা বন্ধ না করলে ওদের কপালে অশেষ দুর্গতি আছে, আর আজ রাতে সেটাই হল।"

উল্লেখ্য, জুন ২০২৫-এ নাইজেরিয়ার এক বিশপের গ্রামের বাড়িতে জঙ্গি হামলায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এর কিছুদিন আগেই ওই বিশপ মার্কিন কংগ্রেসে নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর অত্যাচার নিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।