'অনেক জীবন বাঁচবে', যুদ্ধ থামাতে সোমবার বিকেলেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু, জানালেন ট্রাম্প

Published : Aug 03, 2026, 08:36 AM IST
donald trump strait of hormuz

সংক্ষিপ্ত

ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক হামলার কথা তিনি বিবেচনা করেছিলেন তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা এবং তা তাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনত, এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার নিজের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক বলে তুলে ধরেন

ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক হামলার কথা তিনি বিবেচনা করেছিলেন তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা এবং তা তাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনত, এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার নিজের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক বলে তুলে ধরেন। 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানে থাকা অবস্থায় ট্রাম্প জানান, সোমবার বিকেলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। তবে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। এর মাধ্যমে তিনি আসন্ন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার উপর নতুন করে জোর দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, "আমরা আলোচনার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আগামীকাল বিকেলে এটি শুরু হবে এবং দেখা যাক কী হয়।" তিনি আরও বলেন যে, আরও সংঘাতের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই তাঁর কাছে বেশি পছন্দনীয়। তবে আলোচনাটি কোথায় হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। আলোচনা নিয়ে আশা ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা করতে পারলে খুশিই হব। এতে অনেক জীবন বাঁচবে। কূটনৈতিক সমাধানের ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো সম্ভব হবে, কারণ সবকিছু পুনর্নির্মাণ করতে অনেক অনেক বছর লেগে যাবে।” পরিকল্পিত সামরিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ইরান চায়নি আমরা এটা করি। তিনি আরও জানান যে, সৌদি আরবও কূটনীতির পক্ষেই ছিল, কারণ তাদের বিশ্বাস একটি চুক্তি খুব শীঘ্রই হতে যাচ্ছে। চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য ইরানের উপর কোনও সময়সীমা বা ডেডলাইন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমি বরং একটি চুক্তিই করতে চাই। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। কারণ মানুষ মারা যায়, অনেক মানুষ মারা যায়, আর আমরা সেটা চাই না।"

এর আগের দিন ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ জানিয়েছিলেন যে, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য আরও সময় চেয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ও পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু হুমকির অবসান নিশ্চিত করার কথা ছিল। তিনি তেহরানের প্রতি দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কূটনীতিই এখন মূল মনোযোগের কেন্দ্রে

ইরানের সঙ্গে সংঘাত তীব্র করার হুমকি বারবার দেওয়ার পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার যে নীতি ট্রাম্প এতদিন অনুসরণ করে আসছিলেন, তার সর্বশেষ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর অবস্থানে আবারও পরিবর্তন দেখা গেল। এর আগের দফাগুলোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনও সামগ্রিক চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, তাদের মূল লক্ষ্য হল ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। যে অভিযোগটি তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

হরমুজ প্রণালী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে

বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, তা বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংঘাত চলাকালীন ইরান এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচলে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সোমবার লেনদেনের শুরুর দিকে তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি কমেছে। কারণ নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

ইরানের জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনার জন্য সৌদি বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আইআরএনএ (IRNA)-র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই আলোচনাটি একটি প্রস্তাবিত নতুন নৌ-পথ বা শিপিং রুট বিষয়ক ছিল এবং প্রণালীটি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Taslima Nasrin: বাংলাদেশের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন তসলিমা! ইউসিসি নিয়ে দিলেন বড় বিবৃতি
Suicide Attack: পাকিস্তানে থানার বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা