রাশিয়া ও ইরানের তেল আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ছাড় তুলে নিল আমেরিকা। এর ফলে ভারতের তেল আমদানি, শক্তি সুরক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে তেলের জোগানের ওপর প্রভাব পড়বে। হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়া-ইরানের তেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর দেওয়া অস্থায়ী ছাড় (waiver) আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ছাড়ের কারণেই ভারত-সহ কিছু দেশ সীমিত পরিমাণে তেল কিনতে পারত। এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্বজুড়ে শক্তির বাজারে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
26
ভারতের ওপর সরাসরি প্রভাব: শক্তি সুরক্ষায় চাপ?
ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলিতে রাশিয়া থেকে সস্তায় প্রচুর অপরিশোধিত তেল কিনছিল। তাই আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাবিত দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ভারত তার শক্তির চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু এখন আমেরিকা ছাড় তুলে নেওয়ায় ভারতের সামনে বিকল্প কমে আসছে।
36
হরমুজ অবরোধ: বিশ্বজুড়ে জোগান শৃঙ্খলে বড় বিপদ
হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) উত্তেজনা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০-২৫% তেল এই পথেই সরবরাহ হয়। এখানে কোনও বাধা তৈরি হলে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে, যা এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলির অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। সাম্প্রতিক অবরোধ ইতিমধ্যেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি: বদলে যাচ্ছে সমীকরণ
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে পাকিস্তানও নতুন ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হওয়ার চেষ্টা এটাই প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক রাজনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
56
তেলের দাম ও ভারতের কৌশল: পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
মার্চ ২০২৬-এ ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা তিনগুণ বাড়িয়েছিল, যার ফলে আমদানি বিলও অনেকটা বেড়ে যায়। এখন ছাড় উঠে যাওয়ায় ভারতকে হয় দামী বিকল্প খুঁজতে হবে, নয়তো নতুন জোগান ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। এর ফলে দেশের শক্তি খরচ ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
66
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা: পরিস্থিতি কি আরও খারাপ হবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির (ceasefire) মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। এর মানে হল, আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্বজুড়ে শক্তির বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। আমেরিকার এই পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক (geopolitical) সংকেত। ভারতের মতো দেশগুলির জন্য নিজেদের শক্তি কৌশল নতুন করে সাজানোর এটাই সময়। কারণ আগামী মাসগুলিতে তেল, রাজনীতি ও বাজার—তিনটির সমীকরণই দ্রুত বদলাতে পারে।