
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করল চিন। মঙ্গলবার বেজিং সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও বিপদের মুখে ফেলবে। আল জাজিরার রিপোর্টে এই খবর জানানো হয়েছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ আটকানোর মার্কিন চেষ্টা উত্তেজনা কমানোর বদলে "আরও বাড়িয়ে তুলবে"।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনা বিদেশ মুখপাত্র বলেন, আমেরিকা "সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং নির্দিষ্ট জাহাজকে নিশানা করে অবরোধের পথে হেঁটেছে, যা কেবল উত্তেজনা বাড়াবে এবং ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর হয়ে থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নষ্ট করবে।"
এদিকে, চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে চার-দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।
এই প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলা, দেশগুলির সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা।
বেজিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে শি এই প্রস্তাবের কথা বলেন।
এর আগে, সিএনএন-এর একটি রিপোর্টে মেরিনট্র্যাফিকের ডেটা উল্লেখ করে জানানো হয়, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও মালাউই-র পতাকা লাগানো একটি চিনা জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করেছে।
'রিচ স্টারি' নামের এই জাহাজটির মালিক 'ফুল স্টার শিপিং লিমিটেড' নামে একটি সংস্থা, যা সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত। ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ২০২৩ সাল থেকে এই সংস্থাটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত জাহাজটি হংকংয়ের পতাকায় চলত।
মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটি প্রথমে সোমবার ভারতীয় সময় দুপুর নাগাদ প্রণালী পার করার চেষ্টা করে। কিন্তু ইরানের কেশম দ্বীপের কাছ থেকে কিছুক্ষণের জন্য ফিরে আসে। পরে সন্ধ্যায় দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে এবং মঙ্গলবার সকালের মধ্যে সফলভাবে জলপথটি পার হয়ে যায়।
সিএনএন এক মার্কিন আধিকারিকের সূত্রে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পর পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তত ১৫টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ১১টি ডেস্ট্রয়ার, যারা ইরানের বন্দরগুলিতে নৌ-অবরোধে অংশ নিতে পারে।
কোন কোন জাহাজকে এই অবরোধের জন্য নির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ আগের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অপারেশন এলাকায় নৌ-সম্পদগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রসঙ্গত, সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে ম্যারাথন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলিতে নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন।
মার্কিন এই অবোরধের হুমকিতে এখনও পর্যন্ত মাথা নত করেনি ইরান। পাল্টা ট্রাম্পের হুমকিকে কটাক্ষ করেছে ইরান। তাদের কথায় অবরোধ করার জন্য মার্কিন রণতরীগুলিতে ইরানের কাছাকাছি আসতে হবে। কিন্তু মার্কিন নৌসেনা এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে ইরান পাঁচটি আবর দেশের কাছে ক্ষতিপুরণ দাবি করেছে। ইরানের দাবি আরব দেশগুলি আমেরিকা আর ইজরায়েলকে তাদের ভূখণ্ড ব্য়বহার করতে দিয়েছিল। আর সেই কারণেই ক্ষতিপুরণ দাবি করেছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জামাল ফারেস আলরোওয়াইয়ের উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে, ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং জর্ডানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ক্ষতিপূরণের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দেশগুলো "ইরানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের সনদের ৫১তম অনুচ্ছেদ (আত্মরক্ষার অধিকার) আইনগতভাবে প্রয়োগ করতে পারে না; কারণ তারাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে সহায়তা করেছে।"