New Year 2026: কেন জানুয়ারির ১ তারিখকেই বছরের প্রথম দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হল? এর পিছনে কোনও ঐতিহাসিক কারণ বা জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্মত কারণ আছে, নাকি এটি কেবলই মানুষের তৈরি একটি প্রথা? জেনে নিন।
New Year Celebration: জানুয়ারির ১ তারিখকে বছরের প্রথম দিন ধরার কারণ রোমান সাম্রাজ্যের ক্যালেন্ডার সংস্কার। বিশেষ করে জুলিয়াস সিজার কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে চালু করা 'জুলিয়ান ক্যালেন্ডার'-এর মাধ্যমে, যেখানে 'জানুস' (Janus) নামক দ্বিমুখী রোমান দেবতা, যিনি শুরু ও পরিবর্তনের দেবতা, তাঁর নামানুসারে জানুয়ারি মাসকে প্রথম মাস করা হয় এবং ১ তারিখকে বছরের সূচনা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যদিও মধ্যযুগে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি কর্তৃক 'গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার'-এর মাধ্যমে এই প্রথাটি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হয়।
বিস্তারিত ইতিহাস-
প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডার: মূল রোমান ক্যালেন্ডারে মাত্র ১০ মাস ছিল এবং বছরের শুরু ছিল মার্চ মাস। পরে রাজা নুমা পম্পিলিয়াস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস দুটি যোগ করেন, কিন্তু তখনও বছরের শুরু নিয়ে বিতর্ক ছিল।
খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩ অব্দে পরিবর্তন: রোমান কনসালরা (শাসক) মার্চ মাসের পরিবর্তে ১ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব নেওয়া শুরু করলে, এটি নাগরিক বছরের শুরু হিসেবে চিহ্নিত হয়।
জুলিয়াস সিজারের সংস্কার (খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দ): জুলিয়াস সিজার জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে ক্যালেন্ডারে বড় সংস্কার আনেন, যা 'জুলিয়ান ক্যালেন্ডার' নামে পরিচিত। তিনি জানুয়ারি মাসকে প্রথম মাস এবং ১ জানুয়ারিকে বছরের সূচনা হিসেবে ঘোষণা করেন। জানুয়ারি মাসটির নামকরণ করা হয় রোমান দেবতা 'জানুস'-এর নামে, যার দুটি মুখ অতীত ও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকে—যা নতুন সূচনার প্রতীক।
মধ্যযুগীয় বিভ্রান্তি-
রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন বছরের তারিখ নিয়ে আবার বিভ্রান্তি শুরু হয়। কেউ ২৫ মার্চ, কেউ ২৫ ডিসেম্বর পালন করতেন।
গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি (১৫৮২): ক্যালেন্ডারের সামান্য ত্রুটি সংশোধনের জন্য পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু করেন। এই ক্যালেন্ডার জানুয়ারির ১ তারিখকেই বছরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে এবং ধীরে ধীরে এটি বিশ্বজুড়ে গৃহীত হয়।
এভাবেই রোমান ঐতিহ্য ও ক্যালেন্ডার সংস্কারের হাত ধরে জানুয়ারি ১ তারিখটি নববর্ষের দিন হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে, যা নতুন শুরু, আশা ও পরিবর্তনের প্রতীক।