Iran Vs US রাষ্ট্রসংঘে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মারাত্মক অভিযোগ আনল ইরান। তাদের দাবি, ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena-কে ডুবিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। এই হামলায় প্রায় ১০০ জন ইরানি নাবিক শহিদ হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘে আমেরিকার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ আনল ইরান। ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সৈয়দ ইরাভানি অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena ডুবিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এটি একটি যুদ্ধাপরাধ। রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরাভানি বলেন, "ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২,০০০ মাইল দূরে সমুদ্রে একটি বিপজ্জনক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।
রাষ্ট্রসংঘে ইরানের অভিযোগ
ইরানের ফ্রিগেট 'ডেনা' ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে একটি শুভেচ্ছা সফরে ছিল। জাহাজটিতে প্রায় ১৩০ জন নাবিক ছিলেন। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা চালানো হয়, যাতে প্রায় ১০০ জন ইরানি নাবিক শহিদ হয়েছেন। আমেরিকা একটি যুদ্ধাপরাধ করেছে। এই জঘন্য ও বেআইনি হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতার মৌলিক নীতির গুরুতর লঙ্ঘন।" ইরাভানি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে "দৃঢ়ভাবে, স্পষ্টভাবে এবং অবিলম্বে" ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, "আমরা নিরাপত্তা পরিষদ এবং মহাসচিবের কাছে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলি শাসকদের আগ্রাসন, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের নিন্দা করার জন্য আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। আগ্রাসনকারীদের বাধ্য করতে হবে যাতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে এবং সাধারণ মানুষ ও পরিকাঠামোর ওপর সমস্ত অপরাধ ও সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং যুদ্ধাপরাধের এই গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।" এর আগে, শনিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি আমেরিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা নিরীহ মানুষ ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানের জবাব সরাসরি আমেরিকার ঘাঁটি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হবে।
সোশ্য়াল মিডিয়ায় বার্তা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে আরাঘচি অভিযোগ করেন, "আমাদের আরব বন্ধুদের মাটি ব্যবহার করে" আমেরিকা ইরানের শিশু ও নিরীহদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। "ইরান এবং আরব ভাইরা শতাব্দী ধরে স্নেহ, বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। আর আমেরিকার আগ্রাসকরা আমাদের আরব বন্ধুদের ভূমি থেকে হামলা চালিয়ে শিশু ও নিরীহদের নিশানা করছে। ইরানের জবাব অবশ্যম্ভাবীভাবে আমেরিকার ঘাঁটি ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকেই নির্দেশিত হবে," বলেন আরাঘচি। আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মধ্যেই আরাঘচির এই মন্তব্য সামনে আসে। সম্প্রতি ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব গার্লস প্রাইমারি স্কুলে একটি হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি নিহত এবং আরও ১০০ জন আহত হন। সিএনএন-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্লেষণ থেকে মনে করা হচ্ছে যে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মারাত্মক হামলার জন্য সম্ভবত আমেরিকাই দায়ী ছিল।


