Iran-US Tension: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'শর্তহীন আত্মসমর্পণের' কথা বলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, এই স্বপ্ন আমেরিকাকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান টেলিভিশনে দেশের মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। একদিকে তিনি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আত্মসমর্পণের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। অন্যদিকে, দেশ রক্ষার জন্য সবাইকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন।

ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের আহ্বানে ইরানের জবাব

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত, একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে ওরা সমস্ত আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যেখানে খুশি বোমা ফেলছে। স্কুল, হাসপাতাল বা দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র, কোথাও হামলা করতে ছাড়ছে না... আমাদের সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে নিজেদের জল, মাটি, দেশকে রক্ষা করতে হবে। এই সংকট থেকে ইরানকে গর্বের সঙ্গে বের করে আনার জন্য আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত। আর শর্তহীন আত্মসমর্পণের যে ভাবনা, সেই স্বপ্ন ওদের কবরে নিয়ে যেতে হবে।"

ইরানের প্রেসিডেন্টের এই কড়া জবাব এমন এক সময়ে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে "শর্তহীন আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না"। ট্রাম্পের মতে, কোনো রকম কূটনৈতিক আলোচনার আগে তেহরানকে মাথা নত করতে হবে।

মুসলিম ঐক্যে জোর ইরানের

ভাষণে পেজেশকিয়ান মুসলিম ঐক্যের ওপর জোর দেন। প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর মাটিতে হামলার জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে আর কোনও হামলা হবে না।

তিনি বলেন, "প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আগ্রাসন চালানোর কোনও ইচ্ছা আমাদের নেই। আমি বারবার বলেছি, ওরা আমাদের ভাই। এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে আমাদের একজোট হতে হবে। আমি আশা করি, গতকাল আমাদের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে পরিস্থিতি বদলাবে। সশস্ত্র বাহিনীকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে: এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর কোনো হামলা বা মিসাইল ছোঁড়া হবে না, যদি না তারা আমাদের ওপর হামলা করার পরিকল্পনা করে। আমি মনে করি, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে লড়াই করে সমস্যা না বাড়িয়ে কূটনীতির মাধ্যমে এর সমাধান করা উচিত।"

প্রতিবেশীদের সতর্ক করল ইরান

একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, "কিছু গোষ্ঠী বা দল এই সুযোগে আমাদের মাটিতে হামলা করার কথা ভাবছে। তাদের বলছি, সাম্রাজ্যবাদের খেলার পুতুল না হওয়াই ভালো। যারা নিজেদের স্বাধীনতা ও সম্মান অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য উপনিবেশবাদী এবং গণহত্যায় মদতদাতাদের হাতের পুতুল হওয়া খুব খারাপ।"

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, "শেয়াল, মিথ্যেবাদী আর অপরাধীদের সঙ্গে থেকে সম্মান পাওয়া যায় না। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগও থাকতে পারে। কিন্তু এখন ইজরায়েল আর আমেরিকার খেলার পুতুল হওয়া ঠিক নয়।"

যুদ্ধের ৮ দিন

এদিকে, যুদ্ধের ময়দানে উত্তেজনা কমেনি। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তেহরান এবং মধ্য ইরানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক মিসাইল কারখানা এবং একটি মিলিটারি অ্যাকাডেমিও ছিল। ইজরায়েলি সেনার দাবি, এই হামলায় ইজরায়েলি বায়ুসেনার ৮০টিরও বেশি ফাইটার জেট অংশ নেয় এবং টার্গেটগুলোর ওপর ২৩০টি বোমা ফেলা হয়। IDF-এর মতে, টার্গেটগুলোর মধ্যে একটি ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র ছিল, যেখানে ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি ও মজুত করা হতো এবং ইরানের "সন্ত্রাসী" শাসকগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকশ সেনা কাজ করত।

এর পাল্টা জবাবে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) ঘোষণা করেছে যে শুক্রবার রাতে তারা 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪'-এর ২৩তম পর্যায় শুরু করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই অভিযানে অধিকৃত অঞ্চল এবং ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নতুন প্রজন্মের মিসাইল সিস্টেম দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এই নতুন মিসাইল সিস্টেমগুলো একসঙ্গে একাধিক টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম।