এত অভিমান কীসের, কৃত্তিকার সুইসাইড নোটে উপচে পড়েছে রাগ, যন্ত্রণা

Published : Jun 23, 2019, 12:24 PM IST
এত অভিমান কীসের, কৃত্তিকার সুইসাইড নোটে উপচে পড়েছে রাগ, যন্ত্রণা

সংক্ষিপ্ত

কৃত্তিকার সুইসাইড নোট নিয়ে ধন্দ্বে পুলিশ কার উপরে এত অভিমান দশম শ্রেণির ছাত্রীর কোন ভয়ঙ্কর ঘটনায় ঘুমোতে পারত না সে সুইসাইড নোট কৃত্তিকারই লেখা, নিশ্চিত তদন্তকারীরা

ছত্রে ছত্রে যেন ঝরে পড়ছে অভিমান। তার সঙ্গে উঠে আসছে কোনও এক অজানা ঘটনার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। কার উপরে এত অভিমান ছিল কৃত্তিকার, কোন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয়েছিল দশম শ্রেণির ছোট্ট মেয়েটির? 

কৃত্তিকার দেহের পাশ থেকে যে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছিল, তাতেই আত্মঘাতী ওই ছাত্রী নিজের যাবতীয় ক্ষোভ, অভিমান যেন উগরে দিয়েছে। কৃত্তিকা সেখানে লিখেছে, 'আমি তিন মাস ঘুমোতে পারিনি। সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ভুলতে পারিনি। মৃত্যুর পরে আমায় নিয়ে চর্চা হবে, পুলিশও চর্চা করবে।'

যে কায়দায় সে আত্মহত্যা করবে তা নিয়ে যে রহস্য দানা বাঁধতে পারে, তাও আগাম আন্দাজ করতে পেরেছিল দশম শ্রেণির ছাত্রীটি। সম্ভবত তা ভেবেই সে সুইসাইড নোটে লিখেছে, 'আমি আত্মহত্যা করছি, বিশ্বাস না হলে ভেবো খুন।'

আর কৃত্তিকার সবথেকে বেশি অভিমান ঝরে পড়েছে সুইসাইড নোটের অন্য অংশে। যেখানে সে লিখেছে, 'আমি চাইনা তোমরা আমাকে বাঁচাও। আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করো না। আমি তোমাদের আর দেখতে চাই না। আমি না থাকলে কোনও ক্ষতি নেই।' শুধু তাই নয়, কৃত্তিকার সুইসাইড নোটের আরেক জায়গায় লেখা রয়েছে, 'ছোটবেলাতেই আমি মরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এভাবে মরতে চাইনি।'

ওই সুইসাইড নোট যে কৃত্তিকারই লেখা তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। কৃত্তিকার স্কুল থেকে তার পরীক্ষার খাতা সংগ্রহ করে সুইসাইড নোটের হাতের লেখা মিলিয়ে দেখার পরেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে পুলিশ। 

কিন্তু সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, ঘটনার পর কৃত্তিকার বাবা-মাই নাকি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, এর আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে তাঁদের মেয়ে। সেক্ষেত্রে কৃত্তিকার কোনও কাউন্সিলিং হয়েছিল কিনা, তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। কী নিয়ে কৃত্তিকার অভিমান, কোন ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা সে বলছে, সেই বিষয়গুলি নিয়েও পুলিশ অন্ধকারে। মানসিকভাবে কৃত্তিকার বাবা-মা একটু ধাতস্থ হলে তবেই তাঁদের কাছ থেকে এই বিষয়গুলি জানার চেষ্টা করা হবে। 

ভিতরে এত ক্ষোভ, অভিমান থাকলেও বৈষ্ণবঘাটার বাসিন্দা কৃত্তিকাকে বাইরে থেকে দেখলে তা বোঝার উপায় ছিল না। খুবই মিশুকে স্বভাবের ছিল সে। প্রাণখোলা কৃত্তিকাকে দেখে ঘটনার কয়েক মিনিট আগে পর্যন্তও তার মনের ভিতরের যন্ত্রণার কোনও আভাস পায়নি সহপাঠীরা। 

কৃত্তিকার ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও সে আত্মহত্যা করেছে বলেই দাবি করা হয়েছে। শনিবারই বারুইপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। 

PREV
click me!

Recommended Stories

WB Election Results 2026: কীভাবে চলছে গণনায় নজরদারি? দেখুন কমিশনের ওয়াররুমের সেই ছবি
West Bengal Election Results 2026: 'হিন্দু ইভিএম বিজেপি, মুসলমান ইভিএম তৃণমূল', দাবি শুভেন্দুর