অনেকেই আজকাল ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন। তারপর সারাদিনে যখন যা পারেন, তা খান। পুষ্টিবিদরা বিষয়টাকে একদমই সমর্থন করেন না। তাঁরা বলেন, পরের দিকে কোনও খাবার স্কিপ করলেও করতে পারেন, কিন্তু ভুলেও ব্রেকফাস্ট স্কিপ করবেন না। বরং ব্রেকফাস্ট করুন পেটপুরে। এতে করে শরীরের ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কেউ কেউ জানতে চান, ব্রেকফাস্টে ঠিক কী খাওয়া উচিত। উত্তরে বলি, যা ইচ্ছে তাই খান ব্রেকফাস্টে। চাইলে টোস্ট খেতে পারেন। যদিও তার থেকে হাতেগড়া রুটিসবজি অনেক ভাল। পাউরুটিতে এমনিতে কোনও ক্ষতি নেই। তবে বলা হয়, ব্রেকফাস্টে হোলগ্রেনজাতীয় কিছু খান। পাঁউরুটি হল ময়দার তৈরি। খুব রিফাইনড। চাউমিনও তাই। তাই ওগুলো ব্রেকফাস্টে না-খাওয়াই ভাল। তবে আবারও বলছি, মাঝেসাঝে পাউরুটি খেলে কিন্তু দোষের কিছু নেই। তবে সকালে পাউরুটি না-খেয়ে তা পরের দিকে খাওয়াই ভাল। ব্রেকফাস্টে অবশ্য়ই রাখুন একটা কলা। সবদিক থেকে খুব উপকারি এই ফল। চাইলে ডালিয়াও চলতে পারে ব্রেকফাস্টে। চিঁড়ের পোলাও মন্দ হয় না। তবে অল্প তেল দিয়ে। আপনার ভাল লাগলে কনফ্লেকস বা ওটস খেতেই পারেন, তবে ওগুলো না-খেলেও চলে। চাইলে একটা ডিমসেদ্ধ রাখতে পারেন। তবে তা পরে খেলেও মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। অনেকে ব্রেকফাস্টে দুধ খান, আবার অনেকে খান না। সেটা আপনার ইচ্ছে। তবে দুধ খেলে অনেকের হজমের অসুবিধে হয়। বিশেষ করে কেউ যদি ল্য়াকটোজ ইনটলারেন্ট হয়। সেক্ষেত্রে দুধ না খেলে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। পরে কোনও এক সময়ে টকদই বা ছানা কোনওকিছু খেয়ে নেবেন। আর হ্য়াঁ, ব্রেকফাস্টেই আপনাকে ফলের রস খেতে হবে সিনেমার নায়ক নায়িকাদের মতো, এমন কোনও কথা নেই। বরং ফলের রস না-খেয়ে গোটা ফলটাই খেয়ে ফেলুন পরে কোনও এক সময়ে। তাতে করে রাফেজ যাবে শরীরে। আর হ্য়াঁ, শুনেছি রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত ব্রেকফাস্টে লুচি খেতেন। সেই দেখাদেখি আপনিও তা খেতে যাবেন না যেন। রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত নিমপাতার রসও খেতেন। আপনি নিশ্চয় তা খেতে যাবেন না। অতএব সকালে ঘুম থেকে উঠেই লুচি-পরোটাও খেতে যাবেন না। তাতে হজমের সমস্য়া হতে পারে। এমনকি তেল-ঘিয়ের সৌজন্য়ে শরীরে মেদ বাড়তে পারে। তবে মাঝেমধ্য়ে ছুটিছাটায় একটু-আধতু লুচি-পরোটা চলতেই পারে।