
Vegan Diet : ভেগান ডায়েট নিয়ে বেশ চর্চা শোনা যায়। অনেকে এটাকে কেবল ওজন কমানোর উপায় মনে করেন, আবার অনেকের কাছে এটি একটি নৈতিক জীবনধারা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ভেগান ডায়েট মানে এমন এক খাদ্যাভ্যাস যেখানে প্রাণিজাত কোনো খাবারই রাখা হয় না।
Vegan Diet : আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে ভেগান ডায়েট নিয়ে বেশ চর্চা শোনা যায়। অনেকে এটাকে কেবল ওজন কমানোর উপায় মনে করেন, আবার অনেকের কাছে এটি একটি নৈতিক জীবনধারা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ভেগান ডায়েট মানে এমন এক খাদ্যাভ্যাস যেখানে প্রাণিজাত কোনো খাবারই রাখা হয় না। মাছ, মাংস বা ডিম তো বটেই, এমনকি দুধ, দই, ছানা বা মধুর মতো খাবারগুলোও এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
এই ডায়েটে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় গাছপালা থেকে আসা খাবারের ওপর।
কী খাবেন: সব ধরণের সবজি, ফল, ডাল, বাদাম, দানাশস্য (যেমন চাল, ওটস, জোয়ার, বাজরা), সয়াবিন, তোফু এবং আমন্ড মিল্ক বা কোকোনাট মিল্ক।
কী খাবেন না: সব ধরণের মাংস, মাছ, ডিম, গরুর দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য এবং মধু।
সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে মেনে চললে ভেগান ডায়েট শরীরের জন্য বেশ ফলদায়ী হতে পারে। এর প্রধান কিছু সুবিধা হলো:
ওজন নিয়ন্ত্রণ: উদ্ভিদজাত খাবারে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে, যা দ্রুত ওজন কমাতে এবং মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।
হার্টের স্বাস্থ্য: কোলেস্টেরল এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকায় হার্টের রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
সুগার নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এই ডায়েট বেশ কার্যকর।
হজমশক্তি বৃদ্ধি: প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয় এবং হজম ভালো হয়।
অন্ধভাবে বা সঠিক জ্ঞান ছাড়া ভেগান ডায়েট শুরু করলে শরীরে কিছু পুষ্টির অভাব হতে পারে:
ভিটামিন বি১২ এবং ডি: এই ভিটামিনগুলো মূলত প্রাণিজ উৎস থেকে আসে। তাই ভেগানদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
প্রোটিনের ঘাটতি: মাছ বা মাংস না থাকায় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডাল, তোফু বা সয়াবিন পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে।
আয়রন ও ক্যালসিয়াম: শুধু শাকসবজি থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও আয়রন সব সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না, তাই খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য রাখা জরুরি।
ভেগান ডায়েট অবশ্যই উপকারী যদি আপনি প্রোটিন এবং ভিটামিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন। কেবল প্যাকেটজাত ভেগান স্ন্যাকস খেয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব নয়, প্রাকৃতিক খাবারের ওপর জোর দিতে হবে। মনে রাখবেন, সবার শরীরের গঠন এক নয়। তাই হুট করে খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলার আগে একজন বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।