
Food Tips: “গ্যাসে কুকার চাপিয়ে পাশের ঘরে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বোমা ফাটার মতো আওয়াজ। গিয়ে দেখি গোটা রান্নাঘর ধোঁয়ায় ভরা, ডাল ছিটকে সিলিংয়ে। কপাল ভালো সামনে কেউ ছিল না।” এই অভিজ্ঞতা বেহালার গৃহবধূ রুমা দত্তের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসার কুকারে রান্না হয় ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। ভিতরে বাষ্পের চাপ স্বাভাবিকের ২ গুণ। এই চাপ বেরোনোর একমাত্র রাস্তা সিটি বা ভেন্ট পাইপ। সেটা বন্ধ হলেই কুকার ফেটে যায়।
FSSAI-এর কিচেন সেফটি গাইডলাইনে বলা আছে, তেজপাতা, দারচিনি, এলাচের খোসা, শুকনো লঙ্কা, খোসা-সহ মুগ-মুসুর ডাল, ওটস, পাস্তা জাতীয় খাবার ফুটে গিয়ে ফেনা তৈরি করে। এই ফেনা আর তেজপাতার মতো হালকা পাতলা জিনিসগুলো বাষ্পের সাথে উঠে গিয়ে সরু ভেন্ট পাইপের মুখ আটকে দেয়। সিটি তখন আর বাজে না, কিন্তু ভিতরে চাপ বাড়তেই থাকে। ৩-৪ মিনিটেই চাপ সহ্য সীমার বাইরে চলে গেলে ঢাকনা ছিটকে যায় বা কুকার ফেটে যায়। গরম ডাল-ভাত ছিটকে গায়ে পড়লে ৩ ডিগ্রি বার্ন পর্যন্ত হতে পারে।
শুধু তেজপাতা নয়, এই ৫টা ভুলে রোজ ফাটছে কুকার:
১. কুকারে জল কম দেওয়া: ডাল বা ভাতের জন্য অন্তত পাত্রের ১/৩ অংশ জল দিতেই হবে। জল কম হলে খাবার পুড়ে তলায় লেগে যায় আর বাষ্প তৈরি হয় না। তখন খালি কুকার ওভারহিট হয়ে ফাটে।
২. গ্যাসকেট বা রাবার নষ্ট: কুকারের ঢাকনার রাবার যদি ঢিলে হয়ে যায়, ফেটে যায় বা শক্ত হয়ে যায়, তবে বাষ্প লিক করে। তখন রান্না হয় না, কিন্তু আমরা গ্যাস বাড়িয়ে দিই। ফলে ভিতরে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়। ৬ মাস অন্তর গ্যাসকেট পাল্টান।
৩. কুকার ঠেসে ভরা: প্রেসার কুকারে কখনও ২/৩ ভাগের বেশি খাবার দেবেন না। ডাল, ভাত, খিচুড়ির মতো ফুটে ওঠা খাবারের ক্ষেত্রে ১/২ ভাগ ভরুন। জায়গা না থাকলে ফেনা সরাসরি সিটিতে উঠে ব্লক করবে।
৪. সিটি পরিষ্কার না করা: রান্নার পর আমরা কুকার ধুই, কিন্তু সিটি আর ভেন্ট পাইপ পরিষ্কার করি না। ওর ভিতরে শুকনো ডাল বা মশলা জমে থাকে। প্রতি সপ্তাহে একবার সিটি খুলে আর সরু কাঠি দিয়ে ভেন্ট পাইপ পরিষ্কার করুন। আলোর দিকে ধরে দেখুন ফুটো দিয়ে আলো যাচ্ছে কিনা।
৫. গরম কুকারে জল ঢালা: রান্না শেষে তাড়াতাড়ি ঢাকনা খোলার জন্য অনেকে গরম কুকারের উপর ঠান্ডা জল ঢালেন। এতে হঠাৎ তাপমাত্রার তারতম্যে অ্যালুমিনিয়ামের কুকারের তলা বেঁকে যায় বা ফেটে যায়। সবসময় নিজে থেকে প্রেসার কমতে দিন।
তাহলে তেজপাতা দেবেন কীভাবে? নিরাপদ উপায় ৩টি:
১. পুটলি বানান: তেজপাতা, গোটা গরম মশলা একটা পাতলা সুতির কাপড়ে পুটলি করে বেঁধে কুকারে দিন। রান্না শেষে পুটলিটা তুলে ফেলুন। ফ্লেভারও পাবেন, সিটিও ব্লক হবে না।
২. গুঁড়ো ব্যবহার: তেজপাতা শুকনো করে গুঁড়ো করে রাখুন। রান্নার শেষে ঢাকনা খুলে গুঁড়োটা মিশিয়ে দিন।
৩. খোলা কড়াইয়ে ফোড়ন: কুকারে ডাল সেদ্ধ করে নিন। তারপর কড়াইয়ে তেল গরম করে তেজপাতা-শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে সেদ্ধ ডাল ঢেলে দিন। এটাই সবচেয়ে নিরাপদ।
কুকার কেনার সময় FSSAI-এর পরামর্শ: ISI মার্ক, FSSAI লোগো আছে কিনা দেখুন। সেফটি ভাল্ভ আলাদা আছে এমন কুকার কিনুন। ভেন্ট পাইপ ব্লক হলেও সেফটি ভাল্ভ গলে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ বের করে দেবে।
মনে রাখবেন, ৫ মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে সারা জীবনের কান্না ডেকে আনবেন না। রান্নাঘরের এই ছোট্ট অসাবধানতা আপনার পরিবারের প্রাণ নিতে পারে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News