
নতুন বাবা মা হওয়ার আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে আসে দুশ্চিন্তা। বাচ্চা ঠিকভাবে ঘুমাচ্ছে তো? আপনি হয়তো আদর করে বাচ্চাকে পেটের উপর শুইয়ে দিচ্ছেন, চারপাশে নরম বালিশ, পুতুল, ভারী কম্বল দিয়ে ঘিরে দিচ্ছেন যাতে পড়ে না যায় বা ঠান্ডা না লাগে। কিন্তু জানেন কি, এই ভালোবাসার ভুলগুলোই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে SIDS, অর্থাৎ Sudden Infant Death Syndrome। ১ বছরের কম বয়সী সুস্থ শিশু ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায়, কোনও কারণ ছাড়াই। সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হয় এই কারণে। আর এর প্রধান কারণ হল অনিরাপদ ঘুমের পরিবেশ।
নবজাতকের ঘাড়ের পেশী দুর্বল থাকে। পেটের উপর শোয়ালে বা মুখে কাপড় পড়লে সে নিজে থেকে মাথা সরাতে পারে না। ফলে শ্বাস নিতে না পেরে দম বন্ধ হয়ে যায়। নরম গদিতে মুখ ডুবে গেলেও একই ঘটনা ঘটে।
এটাই বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের এক নম্বর পরামর্শ। ১ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে সবসময় পিঠের উপর ভর দিয়ে চিৎ করে শোয়াতে হবে। কাত করে বা পেটের উপর একদম নয়। অনেকে ভাবেন চিৎ করে শোয়ালে বমি গলায় আটকে যাবে, এটি ভুল ধারণা। চিৎ করে শোয়ানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
শিশুকে কখনই নরম গদি, সোফা, বালিশ বা জল ভর্তি বিছানায় শোয়াবেন না। একটি শক্ত ম্যাট্রেসে চাদর টানটান করে পাতুন। বিছানায় কোনও বালিশ, কোলবালিশ, ভারী লেপ, কম্বল, মশারির জাল গুছিয়ে রাখা কাপড়, বা পুতুল রাখবেন না। বিছানা যত ফাঁকা থাকবে, শিশু তত নিরাপদ থাকবে।
প্রথম ৬ থেকে ১২ মাস শিশুকে আপনার ঘরেই রাখুন, যাতে আপনি নজর রাখতে পারেন। কিন্তু আপনার বিছানায় নয়। একই বিছানায় বাবা মায়ের সঙ্গে ঘুমালে বাবা মায়ের গায়ের চাদর, বালিশ বা ঘুমের মধ্যে হাতের চাপে শিশুর শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আলাদা দোলনা বা crib ব্যবহার করুন। দোলনা আপনার বিছানার পাশেই রাখুন।
শিশুকে অতিরিক্ত গরম কাপড় বা মোটা কম্বলে মুড়ে দেবেন না। এতে SIDS এর ঝুঁকি বাড়ে। ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখুন। শিশু গরমে আছে কি না বোঝার জন্য তার বুকে বা ঘাড়ে হাত দিয়ে দেখুন। যদি ঘামে বা গরম লাগে, তাহলে একটি লেয়ার কাপড় কমিয়ে দিন। মুখ ও মাথা কখনই ঢাকবেন না।
গর্ভাবস্থায় মা ধূমপান করলে বা জন্মের পর ঘরে কেউ ধূমপান করলে শিশুর SIDS এর ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শিশুকে ধোঁয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখুন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশুরা বুকের দুধ খায় তাদের SIDS এর ঝুঁকি কম থাকে। বুকের দুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি সময়মতো সব টিকা অবশ্যই দিন।
ঘুমের সময় প্যাসিফায়ার বা চুষি ব্যবহার করলে SIDS এর ঝুঁকি কিছুটা কমে বলে মনে করা হয়। তবে যদি শিশু বুকের দুধ খায়, তাহলে বুকের দুধ খাওয়া ভালোভাবে শেখার পর, সাধারণত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর থেকে প্যাসিফায়ার দিন।
যদি দেখেন শিশু ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে জোরে নাক ডাকছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, ঠোঁট বা নখ নীল হয়ে যাচ্ছে, বারবার চমকে উঠছে, বা ঘুম থেকে উঠে খুব নিস্তেজ লাগছে, তাহলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। একটি নিরাপদ ঘুমই আপনার সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ। এই নিয়মগুলো শুধু আপনি নয়, বাড়ির দাদু ঠাকুমা, আয়ামাসি, যারা বাচ্চার দেখাশোনা করেন, সবাইকে জানিয়ে দিন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News