
মুখের স্বাস্থ্য মানে শুধু ঝকঝকে দাঁত নয়, এটা আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার আয়না। মুখের ভেতরের অপরিচ্ছন্নতা শুধু দুর্গন্ধ বা দাঁতের ক্ষয়ই বাড়ায় না, এর থেকে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যাও হতে পারে।
আমাদের মুখ শরীরের বাকি অংশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই, অর্থোডন্টিস্ট ডঃ জৈনিল পারেখের মতে, আমাদের রোজকার জীবনযাত্রার ছোট ছোট বদলও মুখের স্বাস্থ্যে বড়সড় প্রভাব ফেলে, যা অনেক সময় আমরা বুঝতেও পারি না।
মানসিক চাপ দাঁতের ক্ষতি করতে পারে
অতিরিক্ত মানসিক চাপ নানা সমস্যার জন্ম দেয়। স্ট্রেস বাড়লে আমরা অনেকেই দিনে বা ঘুমের মধ্যে অজান্তেই দাঁতে দাঁত চেপে ধরি বা ঘষি। এই অভ্যাসকে 'ব্রুকসিজম' (bruxism) বলা হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে চোয়ালে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং দাঁত ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। ঘুম থেকে উঠে যদি চোয়ালে বা দাঁতে ব্যথা হয়, তবে বুঝতে হবে রাতে দাঁত ঘষার অভ্যাস রয়েছে।
শুধু তাই নয়, চাপের কারণে দাঁতের যত্ন নেওয়ার মতো রোজকার রুটিনেও বাধা পড়ে। জীবন ব্যস্ত হয়ে উঠলে দাঁত মাজা বা ফ্লস করার মতো বিষয়ে অবহেলা হয়। সঙ্গে ক্যাফেইন, চিনি দেওয়া খাবার ও পানীয় খাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে। এই সব মিলিয়ে দাঁতে প্লাক জমে সমস্যা আরও জটিল হয়।
খাদ্যাভ্যাস সরাসরি মুখের ওপর প্রভাব ফেলে
আপনি যা খান বা পান করেন, তার সরাসরি প্রভাব দাঁত আর মাড়ির ওপর পড়ে। মিষ্টি খাবার ও পানীয় মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হওয়া অ্যাসিড ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেল, অর্থাৎ বাইরের শক্ত স্তরকে দুর্বল করে দেয়। নরম পানীয়, মিষ্টি এবং বারে বারে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
মাঝে মাঝে সাইট্রাস বা কার্বনেটেড পানীয় খেলে সাধারণত সমস্যা হয় না। কিন্তু নিয়মিত খেলে দাঁতের সুরক্ষার জন্য থাকা বাইরের স্তরটি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে।
ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা থেকে মুখ শুকিয়ে যায়
লালা আমাদের মুখের জন্য খুব জরুরি। এটি খাবারের কণা পরিষ্কার করে, অ্যাসিডের প্রভাব কমায় এবং মুখের ভেতরটা স্বাস্থ্যকর রাখে। শরীরে জল কমলে লালা তৈরি হওয়া কমে যায়, ফলে মুখ অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যায় বা চটচটে লাগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন মুখ শুকনো থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে এবং দাঁতের ক্ষয়ও হতে পারে।
ঘুমের অভ্যাসও মুখের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে
ঘুম ভালো না হলে শুধু পরের দিন ক্লান্তিই লাগে না, মুখের স্বাস্থ্যেও তার প্রভাব পড়ে। যারা নাক ডাকেন বা মুখ খুলে ঘুমান, তাদের মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। আবার, মানসিক চাপের কারণে ঘুমের সমস্যা হলে দাঁত কিড়মিড় করার অভ্যাসও বাড়তে পারে। ভালো ঘুম শুধু আপনার এনার্জিই বাড়ায় না, মুখের স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সাহায্য করে।
মুখের সমস্যাগুলো সাধারণত কোনো একটা বড় কারণে হয় না। বরং রোজকার ছোট ছোট ভুলের যোগফল, যেমন মিষ্টি পানীয় খাওয়া, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার বা ফ্লস না করা, বা পর্যাপ্ত জল পান না করার ফলেই এগুলি তৈরি হয়।
তাই নিয়মিত দাঁত মাজুন ও ফ্লস করুন, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন, চিনি বা অ্যাসিডযুক্ত খাবার বারে বারে খাওয়া কমান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন। এর পাশাপাশি মুখের ভেতরে কী পরিবর্তন হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখুন।
যদি দেখেন মুখ বারবার শুকিয়ে যাচ্ছে, মাড়ি থেকে রক্ত পড়ছে, চোয়ালে ব্যথা বা দাঁত ও মাড়িতে শিরশিরানি (sensitivity) হচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে মুখের স্বাস্থ্যে কোনো সমস্যা হচ্ছে। এই লক্ষণগুলো দেখলেই দেরি না করে একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News