
অনেকেই ভাবেন, সারা সপ্তাহ মদ না খেয়ে শুধু উইকেন্ডে পার্টি করলে বোধহয় কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা একেবারেই ভুল। আপনি সপ্তাহে কতটা মদ্যপান করছেন, তার পাশাপাশি কীভাবে করছেন, সেটাও হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য খুব জরুরি।
হুট করে অনেকটা মদ্যপানের প্রভাব
আপনি কতটা মদ খাচ্ছেন, তার সাথে কত দ্রুত খাচ্ছেন, দুটোই হার্টের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। চলুন, বিষয়গুলো দেখে নেওয়া যাক।
হঠাৎ চাপ
অল্প সময়ের মধ্যে অনেকটা মদ শরীরে গেলে হার্টের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়।
রক্তচাপ ও হার্টবিট
এর ফলে রক্তচাপ আর হার্টবিট হঠাৎ করে বেড়ে যায়।
হলিডে হার্ট সিনড্রোম
অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে হার্টবিটের ছন্দ বিগড়ে যেতে পারে, যাকে এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা 'হলিডে হার্ট সিনড্রোম' বলা হয়।
তরুণদের ওপর প্রভাব
এমনকি অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা নেই এমন তরুণ-তরুণীদেরও একবারে বেশি মদ্যপানের পর বুক ধড়ফড় বা বুকে ব্যথা হতে পারে।
রোজ অল্প মদ্যপানের প্রভাব
আবার, রোজ অল্প পরিমাণে মদ খাওয়া নিরাপদ—এই ধারণাও ঠিক নয়। টানা মদ্যপান করলে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসে, জেনে নিন।
উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন বৃদ্ধি
এর ফলে রক্তচাপ সবসময় বেশি থাকে এবং শরীরের ওজনও বাড়ে।
কোলেস্টেরল বাড়ে
রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিস ও হার্টের পেশির দুর্বলতা
এই অভ্যাসের ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে হার্টের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি
এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হার্ট ফেলিওর, স্ট্রোক এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
তাহলে কোনটা বেশি বিপজ্জনক?
কার্ডিওলজিস্টদের মতে, দুটো অভ্যাসই হার্টের জন্য ক্ষতিকর। যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস আছে, বা যাদের হাই ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস বা আগে থেকেই হার্টের সমস্যা আছে, তাদের মদ্যপানের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। মনে রাখবেন, মাঝেমধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তের চেয়ে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রাই হার্টের স্বাস্থ্য নির্ধারণ করে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News