
অ্যালার্ম বন্ধ করে উঠলেন। কিন্তু পেট যেন গতকালের খাবার নিয়েই বসে আছে। ভার, ফাঁপা, ঢেকুর, মাথা ধরা। অফিসে গিয়ে ১২টা বাজতেই আবার গ্যাসের ব্যথা।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সুজয় রাহা বলছেন, “৯০% পেশেন্টের সকালের ব্রেকফাস্টই হজমের বারোটা বাজায়। ময়দা, সাদা পাউরুটি, তেলে ভাজা, চিনি – এইগুলো পেটের শত্রু। সকালে পেটকে যা দেবেন, সারাদিন শরীর সেটাই ফেরত দেবে।”
তাহলে উপায়? উপায় খুব সোজা। ব্রেকফাস্ট বদলান। ভাজাভুজি ছেড়ে ১ গ্লাস স্মুদি ধরুন। তবে দোকানের ক্রিম-চিনি দেওয়া স্মুদি নয়। ঘরে বানানো ৪ উপকরণের ‘গাট-ফ্রেন্ডলি স্মুদি’।
এই স্মুদির আসল শক্তি এর কম্বিনেশনে। প্রতিটা উপকরণ একে অন্যের কাজ বাড়িয়ে দেয়।
১. টক দই – প্রোটিন আর প্রোবায়োটিকের খনি
১ কাপ ঘরে পাতা টক দই মানে প্রায় ৮-১০ গ্রাম হাই কোয়ালিটি প্রোটিন। পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে, খাই খাই ভাব কমে। আর দইয়ের ল্যাকটোব্যাসিলাস হল ভালো ব্যাকটেরিয়া। এরা পেটের খারাপ ব্যাকটেরিয়া মেরে হজম শক্তি বাড়ায়। IBS, গ্যাস, ব্লোটিং-এর যম হল এই প্রোবায়োটিক। মনে রাখবেন, দই ফ্রিজের ঠান্ডা হলে চলবে না। রুম টেম্পারেচারে আনুন।
২. কলা আর ওটস – সলিউবল ফাইবারের ডোজ
একটা মাঝারি পাকা সবরি বা সিঙ্গাপুরি কলা দেবে ন্যাচারাল মিষ্টি, পটাশিয়াম আর পেকটিন ফাইবার। পটাশিয়াম ব্লোটিং কমায়। আর ২ টেবিল চামচ রোলড ওটস দেবে বিটা-গ্লুকান। এই সলিউবল ফাইবার জল শুষে জেলের মতো হয়। ফলে পায়খানা নরম হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কাটে। একই সাথে খারাপ কোলেস্টেরলও টেনে বের করে দেয়। ইনস্ট্যান্ট ওটস নয়, রোলড ওটস নিন। ১০ মিনিট ভিজিয়ে নিলে স্মুদি হবে ক্রিমি।
৩. ইসবগুল – পেট ঠান্ডা রাখার ব্রহ্মাস্ত্র
১ চামচ ইসবগুল ভুষি হল এই রেসিপির গেম-চেঞ্জার। এটা প্রি-বায়োটিক। মানে দইয়ের প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াগুলোর খাবার। ইসবগুল পেটে গিয়ে জল টেনে ফোলে। ফলে পেট ভরা লাগে, অ্যাসিডিটি কমে, পায়খানা ক্লিয়ার হয়। গরমে পেট ঠান্ডা রাখতেও এর জুড়ি নেই। যাদের পুরনো অম্বল, তাদের জন্য আশীর্বাদ।
উপকরণ: টক দই ১ কাপ, পাকা কলা ১টা, রোলড ওটস ২ টেবিল চামচ, ইসবগুল ১ চামচ। অপশনাল: চিমটি দারচিনি গুঁড়ো, ৫টা ভেজানো আমন্ড।
পদ্ধতি: প্রথমে ওটস ১০ মিনিট ¼ কাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন। এবার মিক্সিতে দিন দই, কলা, ভেজানো ওটস, ইসবগুল। ৩০-৪০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করুন। বেশি ঘন লাগলে সামান্য জল মেশান। গ্লাসে ঢেলে উপরে দারচিনি ছড়িয়ে দিন। ব্যাস, রেডি।
চিনি, মধু, খেজুর কিছু দেবেন না। কলার মিষ্টিই যথেষ্ট। চিনি দিলে দইয়ের ভালো ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
কখন আর কীভাবে খাবেন?
বেস্ট টাইম সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে, ব্রেকফাস্ট হিসাবে। খালি পেটে একদম নয়। ঘুম থেকে উঠে দাঁত মেজে ১ গ্লাস জল খান। ১৫ মিনিট পর এই স্মুদি খান।
তাড়াহুড়ো করবেন না। চামচ দিয়ে বা গ্লাসে ধীরে ধীরে চুমুক দিন। চিবিয়ে খাওয়ার মতো খান। এতে মুখের লালা মিশবে, হজম প্রথম স্টেপ থেকেই শুরু হবে। ঢকঢক করে খেলে গ্যাস হতে পারে।
টানা ২১ দিন খেয়ে দেখুন। ৩ দিনেই টয়লেট ক্লিয়ার হবে। ৭ দিনে গ্যাস-অম্বল অর্ধেক কমবে। ২১ দিনে ওজন ১-২ কেজি কমবে, স্কিনে গ্লো আসবে। কারণ পেট সাফ থাকলে স্কিনও সাফ থাকে।
গ্যাস, অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্য, IBS-এর পেশেন্টদের জন্য দারুণ। ওজন কমাতে চাইলেও আইডিয়াল।
তবে দুধ বা দইয়ে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। কিডনির সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে নিন। ডায়াবেটিস থাকলে কলা হাফ দিন আর দারচিনি অবশ্যই মেশান। ৫ বছরের বেশি বাচ্চাদের দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ইসবগুল হাফ চামচ দিন।
১. মিল প্রেপ: সময় কম থাকলে রাতে ওটস আর ইসবগুল জলে ভিজিয়ে ফ্রিজে রাখুন। সকালে শুধু দই-কলা দিয়ে ব্লেন্ড করুন।
২. রাতে নয়: দই আর কলা কফ বাড়ায়। তাই রাতে এই স্মুদি খাবেন না। সর্দি-কাশি হতে পারে।
৩. ভ্যারিয়েশন: একঘেয়ে লাগলে মাঝে মাঝে কলা বদলে পাকা পেঁপে দিন। পেঁপের প্যাপেইন এনজাইম হজমে আরও হেল্প করে।
পেটকে বলে ‘সেকেন্ড ব্রেন’। পেট খারাপ মানে মুড অফ, কাজে মন নেই, ঘুম নেই। রোজ অ্যান্টাসিড না খেয়ে ১৫ টাকার এই ঘরোয়া স্মুদি ট্রাই করুন।
কারণ ভালো হজম মানেই ভালো দিন। আর ভালো দিন জমতে জমতেই ভালো জীবন তৈরি হয়।
কাল সকাল থেকে শুরু করছেন তো? ২১ দিন পর নিজেই তফাত টের পাবেন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News