
প্রেম ভাঙলে শুধু মন না, শরীরও ভাঙে। বুক ধড়ফড়, মাথা ধরা, খেতে ইচ্ছে না করা—এগুলো হার্টব্রেকের ফিজিক্যাল সিম্পটম। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল বলছে, ব্রেকআপের সময় ব্রেনের যে অংশ অ্যাকটিভ হয়, কোকেন ছাড়লেও সেই অংশই কষ্ট পায়। তাই ‘মুভ অন কর’ বলা সহজ, করা কঠিন। কিন্তু কঠিন মানেই অসম্ভব না। আপনার ব্রেনকে রিহ্যাব করাতে হবে। চলুন দেখি ৫টা স্টেপ, যা থেরাপিস্টরাও সাজেস্ট করেন।
প্রথম উপায় হল ‘নো কন্ট্যাক্ট রুল’। একদম ৩০ দিন। ব্লক না করলেও হবে, কিন্তু মেসেজ না, কল না, স্টক না, কমন ফ্রেন্ডের কাছে খোঁজ না। কেন? কারণ যতবার আপনি এক্স-এর প্রোফাইল দেখবেন, ইনস্টা স্টোরি চেক করবেন, ততবার ব্রেনে ডোপামিন স্পাইক হবে। আবার যখন রিপ্লাই পাবেন না, তখন ক্র্যাশ করবে। এটা ড্রাগের মতো সাইকেল। এই সাইকেল ভাঙতে গেলে সাপ্লাই বন্ধ করতে হবে। প্রথম ৭ দিন নরক লাগবে। হাত নিশপিশ করবে। ফোন ডিলিট করে দিন, নয়তো বন্ধুকে পাসওয়ার্ড দিয়ে দিন। ৮ দিনের মাথা থেকে দেখবেন উইথড্রয়াল কমছে। ৩০ দিন পর ব্রেন বুঝে যাবে, ‘ওকে ছাড়াও আমি বাঁচতে পারি’।
দ্বিতীয় স্টেপ, ‘গাট রিসেট’। ব্রেকআপের পর আমরা হয় পাগলের মতো খাই, নয়তো খাওয়া বন্ধ করে দিই। দুটোই ভুল। পেট আর ব্রেন ডিরেক্ট কানেক্টেড। পেট খারাপ মানে মুড খারাপ। তাই ৭ দিনের জন্য ‘হিলিং ডায়েট’ নিন। সকালে টক দই-কলা-চিয়া সিড। দুপুরে ভাত-ডাল-সবজি। রাতে স্যুপ বা রুটি। চিনি, ক্যাফিন, অ্যালকোহল একদম বাদ। কারণ এগুলো অ্যাংজাইটি ১০ গুণ বাড়ায়। সাথে দিনে ৩ লিটার জল। শরীর থেকে কান্নার টক্সিন বের করতে হবে তো। পেট ঠিক থাকলে দেখবেন কান্না ৫০% কমে গেছে।
তৃতীয় উপায় হল ‘বডিকে বিট করা’। কষ্ট পেলে আমরা বিছানায় শুয়ে থাকি। ব্রেন তখন ভাবে, ‘আমি তো মরে যাচ্ছি’। তাই আপনাকে ব্রেনকে চমকাতে হবে। রোজ ৩০ মিনিট ঘাম ঝরান। জিম যেতে হবে না। ইউটিউব দেখে জুম্বা করুন, ছাদে দড়ি লাফান, বা রাস্তায় জোরে হাঁটুন। এক্সারসাইজ করলে ব্রেনে এন্ডোরফিন বেরোয়। এটা ন্যাচারাল পেইনকিলার। কান্না পেলে ১০টা স্কোয়াট দিন। রাগ উঠলে বালিশে ঘুষি মারুন। ভিতরের এনার্জি বের না করলে সেটা ডিপ্রেশন হয়ে জমবে। কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ান, দেখবেন কান্না হাসিতে বদলে গেছে।
চতুর্থ স্টেপ, ‘স্টোরি রি-রাইট’। ব্রেকআপের পর আমরা একটা গল্প বানাই—‘ও আমাকে ইউজ করেছে’, ‘আমি ভালোবাসার যোগ্য না’। এই গল্পটাই আপনাকে শেষ করে দিচ্ছে। খাতা-পেন নিন। লিখুন, ‘এই রিলেশন আমাকে কী শেখালো?’ হয়তো শেখালো রেড ফ্ল্যাগ চিনতে, নিজের টাইমকে ভ্যালু দিতে, বা ‘না’ বলতে। এবার লিখুন, ‘আমি কেমন পার্টনার ডিজার্ভ করি?’ লিস্ট বানান। দেখবেন ব্রেন ‘ভিকটিম’ মোড থেকে ‘ক্রিয়েটর’ মোডে শিফট করছে। আপনি আর ফেলে দেওয়া জিনিস না, আপনি নিজের নতুন ভার্সন বানাচ্ছেন। এই লেখাটা রোজ পড়ুন। নেগেটিভ গল্পটা আস্তে আস্তে ডিলিট হয়ে যাবে।
পঞ্চম আর শেষ উপায়, ‘নতুন ডোপামিন সোর্স’। প্রেমে থাকাকালীন আপনার সব খুশির সোর্স ছিল ওই মানুষটা। এখন সে নেই, তাই ব্রেন ফাঁকা। এই ফাঁকা জায়গায় নতুন কিছু ঢোকান। নতুন স্কিল শিখুন—গিটার, কুকিং, কোডিং, ড্রাইভিং। ২১ দিনে নতুন হ্যাবিট তৈরি হয়। এমন কিছু করুন যা ৬ মাস আগে ‘সময় নেই’ বলে করেননি। ট্রেক-এ যান, একা সিনেমা দেখুন, ব্লাড ডোনেট করুন। যখন আপনি নিজে থেকে নিজেকে খুশি করতে পারবেন, তখন বুঝবেন আপনি হিল হয়ে গেছেন। কারণ তখন আর কারও ‘হ্যাঁ’ এর উপর আপনার ‘ভালো থাকা’ ঝুলে থাকবে না।
শেষ কথা, টাইম সব হিল করে না, রাইট অ্যাকশন হিল করে। কাঁদুন, মন খুলে কাঁদুন। কিন্তু ৭ দিনের বেশি বিছানায় থাকবেন না। বন্ধুদের সাথে কথা বলুন, থেরাপিস্টের হেল্প নিন। আর মনে রাখবেন, যে চলে গেছে সে আপনার লাইফের স্পিডব্রেকার ছিল, ডেস্টিনেশন না। ‘না’ বলেছে বলে থ্যাঙ্ক ইউ দিন। কারণ ওই ‘না’ টাই আপনাকে আপনার আসল ‘হ্যাঁ’ এর কাছে নিয়ে যাবে। নিজের কাছে, নিজের আলোর কাছে।
ব্রেকআপের কষ্ট গভীর ডিপ্রেশন, সেল্ফ-হার্ম চিন্তা বা প্যানিক অ্যাটাকের দিকে গেলে এটি সাধারণ আর্টিকেলের বাইরে। দয়া করে অবিলম্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News