
পাওয়ার একই হলেই অন্যের চশমা পরা যায়, এই ধারণা একেবারে ভুল। চশমা শুধু পাওয়ার দিয়ে তৈরি হয় না, PD, সিলিন্ডার, অ্যাক্সিস, দুই চোখের পাওয়ারের পার্থক্য সব মিলিয়ে তৈরি হয়। অন্যের চশমা পরলে মাথা ঘোরা, চোখে ব্যথা থেকে শুরু করে দৃষ্টিশক্তি আরও খারাপ হতে পারে।
রাস্তায় চলতে গিয়ে হঠাৎ করে বন্ধুর চশমাটা পরে দেখলেন, আর মনে হল আরে, আমার তো সব ঠিকঠাকই দেখা যাচ্ছে, পাওয়ার তো একই। অনেকেই এই কাজটা করে থাকেন। বাসে, অফিসে বা বাড়িতে অন্যের চশমা ট্রাই করা আমাদের কাছে খুব সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাধারণ ভুলটাই আপনার চোখের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
দুজনের চশমার পাওয়ার -২.০০ হলেও দুটি চশমা কখনও এক হয় না। কারণ চশমা তৈরি হয় শুধু একটা নম্বর দিয়ে নয়। এর পিছনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি থাকে। প্রথমত, স্ফিয়ার পাওয়ার, যেটা দূরের বা কাছের দৃষ্টির জন্য। দ্বিতীয়ত, সিলিন্ডার ও অ্যাক্সিস, যেটা অ্যাস্টিগমাটিজম বা বাঁকা দৃষ্টি ঠিক করার জন্য লাগে। অনেকের এক চোখে সিলিন্ডার থাকে, অন্য জনের থাকে না। তৃতীয়ত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল PD বা Pupillary Distance, অর্থাৎ দুই চোখের মণির মধ্যেকার দূরত্ব। আপনার PD ৬২ মিমি হলে আর আপনার বন্ধুর PD ৬৮ মিমি হলে, একই পাওয়ারের চশমা পরলেও লেন্সের সেন্টার আপনার চোখের সেন্টারের সঙ্গে মিলবে না। ফলে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। চতুর্থত, দুই চোখের পাওয়ারের পার্থক্য। অনেকের এক চোখে -১.৫০ এবং অন্য চোখে -২.৫০ থাকে। অন্যের চশমায় এই ব্যালেন্সটা আপনার সঙ্গে মিলবে না।
অন্যের চশমা পরলে কী হয়? সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘোরা, চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব এমনকি চোখ দিয়ে জল পড়তে পারে। আপনি হয়তো ভাববেন কিছুক্ষণ পর ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু মস্তিষ্ককে সেই ভুল পাওয়ারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যাকে আই স্ট্রেন বলে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চললে চোখের ফোকাস করার পেশি দুর্বল হয়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অন্যের চশমা পরা মারাত্মক ক্ষতিকর, এতে তাদের পাওয়ার আরও দ্রুত বাড়তে পারে এবং অ্যাম্বলিওপিয়া বা লেজি আই হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই চোখের ডাক্তাররা স্পষ্ট বলছেন, পাওয়ার মিললেও কখনও অন্যের চশমা ব্যবহার করবেন না। চশমা হল একেবারে ব্যক্তিগত জিনিস, ওষুধের মতো। সবসময় চোখ পরীক্ষা করিয়ে নিজের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চশমা বানান। আর যদি চোখে চাপ বা মাথা ব্যথা হয়, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News