
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো মানেই বাঙালি বাড়িতে আলপনা, ধানের ছড়া আর ভোগের থালায় নারকেলের মিষ্টির গন্ধ। আগে দোকানের মিষ্টির চল এত ছিল না। লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন থেকেই ঠাকুমা-দিদিমারা বসে যেতেন নারকেল কোরাতে। কারণ লক্ষ্মী ঠাকুরের ভীষণ প্রিয় নারকেল। আর নারকেল দিয়েই তৈরি হতো নাড়ু, গুড়পুলি আর সবার প্রিয় চন্দ্রপুলি।
চাঁদের মতো দেখতে বলেই কি নাম চন্দ্রপুলি? হ্যাঁ, অর্ধচন্দ্রাকার আকারের জন্যই এর এমন নাম। সাদা ধবধবে এই মিষ্টি দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনই নরম তুলতুলে। মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়। আগে গ্রাম বাংলায় ঘরে ঘরে পুজোর সময় এই মিষ্টি বানানোর রেওয়াজ ছিল। খোয়া ক্ষীর, নারকেল আর কর্পূরের গন্ধে ম ম করত সারা বাড়ি। আজকাল ব্যস্ততার যুগে সেই সাবেকি রেসিপি অনেকেই ভুলতে বসেছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, দোকান থেকে কেনা মিষ্টিতে সেই স্বাদ পাবেন না।
তাই এবার লক্ষ্মীপুজোয় মা লক্ষ্মীকে খুশি করতে নিজে হাতেই বানিয়ে ফেলুন এই সাবেকি মিষ্টি। মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে।
নারকেল - ২টি (কোরানো) খোয়া ক্ষীর - ২৫০ গ্রাম চিনি - ৮ টেবিল চামচ কর্পূর - ১/২ চা চামচ (ঐচ্ছিক, সুগন্ধের জন্য) ছোট এলাচ - ৫-৬টি (গুঁড়ো করা) ঘি - ১ চা চামচ
প্রথমে কোরানো নারকেল, খোয়া ক্ষীর এবং চিনি একসঙ্গে একটি কড়াইতে মিশিয়ে নিন। মাঝারি আঁচে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। চিনি গলে গিয়ে মিশ্রণটি একটু আঠালো হয়ে আসবে।
মিশ্রণটি যখন কড়াই থেকে ছেড়ে আসতে শুরু করবে এবং একটা মণ্ডের মতো হয়ে যাবে, তখন বুঝবেন পুর প্রায় রেডি। এই সময় এতে এলাচ গুঁড়ো, কর্পূর এবং ঘি দিয়ে আরও এক মিনিট নেড়ে নামিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, বেশি শুকনো করবেন না, তাহলে পুলি ফেটে যাবে।
মিশ্রণটি হালকা ঠান্ডা হলে হাতে ঘি মাখিয়ে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। এবার হাতের তালুতে নিয়ে অর্ধচন্দ্রাকার বা চাঁদের মতো আকারে গড়ে নিন। দুই পাশ মুড়ে নকশা করতে চাইলে চামচ বা ছাঁচ ব্যবহার করতে পারেন।
ব্যাস, রেডি আপনার ধবধবে সাদা চন্দ্রপুলি। উপর থেকে সামান্য খোয়া ক্ষীর ছড়িয়ে লক্ষ্মী ঠাকুরকে ভোগ দিন। ফ্রিজে ৩-৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News