
পুজোর আগে নতুন জামা, নতুন জুতো, নতুন হেয়ার কাট - সব রেডি। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালেই কালো জামার ওপর সাদা সাদা খুশকি সব লুক নষ্ট করে দিচ্ছে। অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পুজোর এক মাস আগে থেকেই পার্লারে গিয়ে দামি হেয়ার স্পা, কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করান। কিন্তু তাতেও লাভ হয় না। ২-৩ দিন পরেই খুশকি আবার ফিরে আসে। তখনই অনেকের মাথায় আসে, বাজারে যে ‘কোল-টার’ শ্যাম্পু পাওয়া যায়, সেটা ব্যবহার করলে কি জেদি খুশকি চলে যাবে?
চলুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কোল-টার শ্যাম্পু আসলে কী? এটি সাধারণ শ্যাম্পু নয়। বাজারে যে সাধারণ অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু পাওয়া যায়, যাতে কিটোকোনাজল বা জিঙ্ক থাকে, কোল-টার শ্যাম্পু তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি একটি মেডিকেটেড শ্যাম্পু, যা কয়লা থেকে তৈরি একটি বিশেষ উপাদান দিয়ে তৈরি। এর প্রধান কাজ তিনটি -
১. কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ: আমাদের মাথার ত্বকে প্রতিনিয়ত নতুন কোষ তৈরি হয় এবং পুরনো কোষ ঝরে যায়। খুশকির সমস্যায় এই প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হয়। কোল-টার এই অতিরিক্ত কোষ তৈরির গতি কমিয়ে দেয়। ২. চুলকানি ও প্রদাহ কমায়: খুশকির সঙ্গে যে অসহ্য চুলকানি এবং মাথার ত্বক লাল হয়ে যাওয়া থাকে, কোল-টার তা কমাতে খুব কার্যকরী। ৩. জেদি খুশকিতে অব্যর্থ: সাধারণ খুশকি ছাড়াও সেবোরিক ডার্মাটাইটিস এবং মাথার সোরিয়াসিসের মতো কঠিন চর্মরোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা এই শ্যাম্পুই প্রেসক্রাইব করেন।
তাই মনে রাখবেন, আপনার যদি মাঝে মাঝে অল্প খুশকি হয়, তার জন্য কোল-টার প্রথম পছন্দ নয়। যখন কোনও কিছুতেই কাজ হচ্ছে না, তখনই এটি ব্যবহার করা হয়।
এটি কি ব্যবহার করা নিরাপদ? পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি? হ্যাঁ, সঠিক নিয়মে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করলে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। US FDA এটিকে খুশকির চিকিৎসায় নিরাপদ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে কিছু সতর্কতা মানতেই হবে, না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা:
১. রোজ ব্যবহার ভুলেও নয়: এটি রোজ ব্যবহারের শ্যাম্পু নয়। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। বেশি ব্যবহার করলে মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাবে, চুল রুক্ষ হয়ে ভেঙে যেতে পারে।
২. ব্যবহারের পদ্ধতি: শ্যাম্পু নিয়ে সরাসরি ধুয়ে ফেলবেন না। মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন, যাতে ওষুধটি ত্বকের ভেতরে কাজ করতে পারে। তারপর ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৩. রঙিন চুলে সাবধান: আপনার চুলে যদি রং করা থাকে, হাইলাইট বা মেহেন্দি করা থাকে, তাহলে কোল-টার শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। এটি চুলের রং ফিকে করে দিতে পারে এবং হালকা বাদামি দাগ ফেলতে পারে। স্বর্ণকেশী চুলেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
৪. রোদের সংবেদনশীলতা: কোল-টার ব্যবহারের পর আপনার মাথার ত্বক সূর্যের আলোতে বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই শ্যাম্পু করার পর দিনে চেষ্টা করুন সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে চলতে বা টুপি ব্যবহার করতে।
৫. গন্ধ এবং জ্বালা: অনেকের এই শ্যাম্পুতে একটু কড়া গন্ধ লাগে এবং প্রথমবার ব্যবহারে হালকা জ্বালা করতে পারে। যদি তীব্র জ্বালা, ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জি হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যান।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নয়: চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজে থেকে ইউটিউব দেখে বা ওষুধের দোকান থেকে কিনে কোল-টার শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। কারণ সব খুশকি এক নয়। আপনার খুশকি ফাঙ্গাসের কারণে, নাকি সোরিয়াসিসের কারণে, সেটা আগে নির্ণয় করা জরুরি। ভুল চিকিৎসায় মাথার ত্বকে ইনফেকশন আরও বেড়ে যেতে পারে এবং চুল উঠতে শুরু করতে পারে। তাই পুজোর আগে খুশকি নিয়ে আর দুশ্চিন্তা না করে একবার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তিনিই বলে দেবেন আপনার জন্য কোল-টার দরকার কি না, নাকি অন্য কোনও শ্যাম্পুতেই কাজ হয়ে যাবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News