
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা মানেই কি কেবল তেতো খাবার আর কড়া ডায়েট? চিকিৎসকরা বলছেন, বিষয়টি তেমন নয়। জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম ডায়াবেটিস মোকাবিলায় মিরাকেলের মতো কাজ করতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি ভারী খাবারের পর মাত্র ১০-১৫ মিনিট হালকা হাঁটা (Post-meal walk) সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া (Spikes) রোধ করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়। এই ছোট্ট অভ্যাসটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি পেশীকে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সাহায্য করে।
বিস্তারিত আলোচনা:
* কেন এটি কাজ করে: খাওয়ার পর আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। এই সময় শরীর ইনসুলিন তৈরি করে গ্লুকোজ কোষে পাঠায়। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। খাওয়ার পর হাঁটা পেশীগুলিকে সরাসরি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে বাধ্য করে, ফলে রক্তে সুগার কমে।
* সঠিক সময় ও পদ্ধতি: খাওয়ার ঠিক পরপরই বা ৩০ মিনিটের মধ্যে হাঁটা শুরু করুন। খুব দ্রুত হাঁটার প্রয়োজন নেই, সাধারণ গতিতে বা হালকা পায়ে ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেই চলবে।
* গবেষণার ফলাফল: গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলে রক্তে শর্করার মাত্রা ২২% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে (HbA1c কমানোর ক্ষেত্রে) বড় ভূমিকা রাখে।
* অন্যান্য সুবিধা: হাঁটার ফলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়, মেটাবলিজম বা বিপাক ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীরের ক্লান্তিভাব কমে।
বিশেষ সতর্কবার্তা:
* হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Low Blood Sugar): যদি ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তবে খাওয়ার পর হাঁটলে রক্তে শর্করা খুব বেশি কমে যেতে পারে(হাইপোগ্লাইসেমিয়া)। হাঁটার পর দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
* বিকল্প ব্যায়াম: যদি হাঁটা সম্ভব না হয়, তবে চেয়ারে বসে ১০ মিনিট পায়ের পাতা ওঠা-নামা (Soleus Pushup) বা হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন, যা পেশীকে সক্রিয় রাখে।
দ্রষ্টব্য: যেকোনো নতুন শারীরিক কার্যক্রম শুরু করার আগে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা ভালো।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News